Raiganj | ঝাড়ফুঁকই কাল, মৃত্যু শিশুর 

Raiganj | ঝাড়ফুঁকই কাল, মৃত্যু শিশুর 

শিক্ষা
Spread the love


বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: ফের অসচেতনতার বলি। ওঝার কাছেই ‘গোল্ডেন আওয়ার’ শেষ। প্রায় দুই ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হল সাপের ছোবল খাওয়া এক শিশুর। মেয়েকে হারিয়ে বাবার এখন আফসোস, ওঝার কাছে না গিয়ে প্রথমেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো মেয়েটা বেঁচে যেত। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুর নাম নিশা বর্মন (৬)। বাড়ি রায়গঞ্জ (Raiganj) থানার বারদুয়ারি সংলগ্ন মধুপুর গ্রামে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে বাড়ি সংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে ছিল নিশা। সেই সময় আচমকা তার ডান হাতের আঙুলে ছোবল মারে একটি বিষধর সাপ। তার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর তাঁরা অসুস্থ শিশুটিকে এলাকারই এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক।

ওঝার কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি সুস্থ হয়ে গিয়েছে ভেবে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাড়িতে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে। পেটে তীব্র ব্যথা, বমি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপরেই প্রতিবেশীদের পরামর্শে দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মৃত্যু হয় শিশুটির। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে এদিন বিকেলে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।

মেয়ের এমন অকালমৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছেন বাবা গোপাল বর্মন। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করার পর ওঝা বলেন, মেয়ে সুস্থ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার পেটে ব্যথা হয় ও বমি করতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারায়। তখনই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি। কিন্তু চিকিৎসায় আর তেমন সাড়া না দেওয়ায় সোমবার সকালে মৃত্যু হয় আমার একরত্তি মেয়ের।’ মেয়েকে হারিয়ে গোপাল বলেন, ‘ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়াই আমাদের ভুল হয়েছে। ওঝা প্রথমে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু হল কই?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *