রায়গঞ্জ: এবার বন্ধ কমিউনিটি টয়লেটে মিলল আবাস যোজনার নথিপত্র। আর তাতে নাম জড়াল রায়গঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ও তাঁর ভাইয়ের। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রায়গঞ্জ (Raiganj) শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে।
রাজ্যে পালাবদল হতে না হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একের পর এক কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। কোনও কোনও কাউন্সিলারকে তো গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এবার ব্যক্তিগত জায়গা দখল করে কমিউনিটি শৌচালয় বানানো ও আবাসের নথি নিয়ে কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জ পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার আরতি মণ্ডল ও তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে। সেই নথিগুলি মেলার পর স্থানীয়রা সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, আবাস যোজনায় গরিবদের ঘর দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ব্যাংকের পাসবুক জমা নিয়ে তারপর তাদের নানাভাবে প্রতারিত করেছেন আরতি ও তাঁর ভাইয়েরা। কিন্তু তৃণমূলের জমানায় এলাকাবাসী নাকি ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি আরতি ও তাঁর ভাই সনৎ সরকারের বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলার আরতির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যে কমিউনিটি শৌচালয় নিয়ে এত কাণ্ড, সেটি গঙ্গা সাহা নামের এক মহিলার দেড় কাঠা জমি দখল করে বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। নামে কমিউনিটি শৌচালয় হলেও সেটি কিন্তু কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বন্ধই থাকত। গঙ্গার পুত্রবধূ শ্যামা সাহা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের জমি জোর করে দখল করে নেয় সনৎ। কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি।’ যদিও আরতির ভাই সনতের দাবি, ‘কারও ব্যক্তিগত জমি দখল করা হয়নি। খাসজমিতে সেই শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে।’
মঙ্গলবার বিকেলে বাসিন্দারা সেই শৌচালয়ের দরজার তালা ভেঙে দেন। তখন নজরে পড়ে, সেখানে বিভিন্ন নথিপত্র, পাসবুক ও নগদ টাকা পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসের ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা চাইতেন সনৎ। কাটমানি না দিলে ঘর মিলত না। স্থানীয় বাসিন্দা দীপালি রায় যেমন আবাসের ঘর পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘর দেওয়ার নাম করে নথিপত্র ও টাকা নেওয়া হলেও ঘর দেওয়া হয়নি।’ আরেক এলাকাবাসী অজয় বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারিনি। এখন ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’
কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সনৎ। তিনি বলেন, ‘কারও থেকে ঘরের জন্য এক টাকাও নেওয়া হয়নি। যারা ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের নাম পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাই উপভোক্তাদের নথিপত্র এক জায়গায় রাখা ছিল। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’
