উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সংসদের বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। সোমবার লাদাখে চিনা আগ্রাসন ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi Ladakh Controversy)। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের একটি ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে স্পিকারের ধমক ও সরকারের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হলো তাঁকে।
তর্কের সূত্রপাত এদিন রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের জবাবে রাহুল গান্ধি লাদাখ প্রসঙ্গ তোলেন। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের আগে থেকেই লাগাতার চিনের কাছে ভারতের জমি হাতছাড়া হচ্ছে, কিন্তু সরকার এই সত্য স্বীকার না করে নীরব রয়েছে। নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের (MM Naravane Ebook Controversy) অপ্রকাশিত জীবনী গ্রন্থ থেকে একটি অনুচ্ছেদ পড়তে শুরু করেন রাহুল।
রাহুল উদ্ধৃত করেন, “জেনারেল নারাভানে বলছেন, কৈলাশ রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতের অবস্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল…।” এইটুকু বলতেই সংসদে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিজেপি সাংসদরা একযোগে প্রতিবাদ শুরু করেন।
রাজনাথ ও স্পিকারের কড়া অবস্থান রাহুলের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে আসরে নামেন খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি কড়া সুরে বলেন, “সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, এমন কোনও বই বা উৎস থেকে উদ্ধৃত করা যায় না যা এখনও প্রকাশিতই হয়নি। এটি পুরোপুরি সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।” রাহুল গান্ধি তাঁর সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সওয়াল করলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। তিনি রাহুল গান্ধিকে মনে করিয়ে দেন যে, যে বই সাধারণের নাগালের বাইরে বা অপ্রকাশিত, তা নিয়ে সদনে আলোচনা করা যায় না। স্পিকারের নির্দেশে শেষমেশ পিছু হটতে হয় রাহুলকে।
রাজনৈতিক উত্তাপ বিরোধীদের দাবি, সরকার সুকৌশলে লাদাখ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, রাহুল গান্ধি ভিত্তিহীন এবং অপ্রাসঙ্গিক উৎস ব্যবহার করে সেনার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছেন। এই বাকযুদ্ধে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও চিন ইস্যু নিয়ে আগামী দিনগুলোতেও সংসদের দুই কক্ষ উত্তাল হতে চলেছে।
