উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সীমান্তরাজ্য পঞ্জাবে প্রচার অভিযান জোরদার করল কংগ্রেস (congress)। সাঙ্গরুর জেলায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভা থেকে শাসকদল আম আদমি পার্টি (aap) ও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের (bhagwant-mann) প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul-Gandhi)। অতীতে সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা টেনে তিনি দাবি করেন, লোকসভার সাংসদ থাকাকালীন বেলা গড়ালেই পঞ্জাবের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর শারীরিক উপস্থিতিতে মদের গন্ধ পাওয়া যেত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য জুড়ে জেঁকে বসা মাদক সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই ব্যক্তি আক্রমণ আপ সরকারের ভাবমূর্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বক্তব্য চলাকালীন অবশ্য নিজের মন্তব্যের একটি কৌশলগত ব্যাখ্যাও পেশ করেন এই কংগ্রেস শীর্ষনেতা। ব্যক্তিগত স্তরে কেউ কী খাবেন বা পান করবেন, তা নিয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই বলে সওয়াল করলেও, একটি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যদি নেশাগ্রস্ত থাকেন, তবে কীভাবে সেই প্রশাসন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন করবে—সেই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন তিনি। কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, দিল্লি কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পরোক্ষ পরামর্শেই পঞ্জাবের প্রশাসনিক চাকা ঘুরছে, যা রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
একই মঞ্চে আম আদমি পার্টির ভূমিকার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়। রাজ্যে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় তুলে ধরে প্রয়াত শিল্পী সিধু মুসেওয়ালার পরিবারের উপস্থিতিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় ভোটারদের আস্থা ফেরাতে পঞ্জাবের স্বার্থ রক্ষাকারী স্বনির্ভর সরকার গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেছে কংগ্রেস শিবির।
কংগ্রেসের এই সুর চড়ানোর জবাব দিতে দেরি করেনি শাসকদল আপ। দিল্লির দলীয় মুখপাত্রের বক্তব্য, এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করে এবং এটি নেহাতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিগত চরিত্রহনন ছাড়া কিছু নয়। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনও কার্যকর ইস্যু না পেয়েই জাতীয় স্তরের নেতারা এমন নিম্নমানের অভিযোগের পথ বেছে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের বেশ কিছু সময় বাকি থাকতেই সাঙ্গরুরের এই সমাবেশ পঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলল।

