রহিদুল ইসলাম, চালসা: ১০ ফুট লম্বা অজগরকে হাতে তুলে প্রকাশ্য রাস্তায় উল্লাস! এমনকি, গলায় জড়িয়ে চলল দেদার সেলফি তোলার পালা (Python Rescue Controversy)। দেশের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পৈশাচিক বর্বরতার এই ঘটনা ঘটল জলপাইগুড়ির মাটিয়ালি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরবাধূড়া এলাকায়। ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তুমুল বিতর্ক দানা বঁাধে। যদিও ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে প্রকাণ্ড অজগরটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ঘরের ভেতরের টুইয়ের মধ্যে কুণ্ডলী পাকিয়ে ছিল বুনো। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় বাড়ির সদস্যদের। এরপরই খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। খুনিয়া স্কোয়াডের বনকর্মীরা চালসার সর্পপ্রেমী দিবস রাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় পৌঁছোন। উদ্ধার করা হয় অজগরটিকে। জানা গিয়েছে, পরে সাপটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
যদিও সাপ নিয়ে উল্লাস, নাচানাচি, গলায় জড়িয়ে ছবি তোলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে সামাজিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। পাশাপাশি, উদ্ধারকারী দলে থাকা বন দপ্তরের প্রতিনিধিদের ভূমিকাও প্রশ্নচিহ্নের তলায় রয়েছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ শুধু বিপজ্জনক নয়, আইনবিরুদ্ধও বটে। বন্যপ্রাণ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। এদিকে এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তিনি বলেন, ‘এভাবে বন্যপ্রাণী নিয়ে বিশৃঙ্খলা, তাদের ওপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। এর সঙ্গে যে বা যঁারা জড়িত তঁাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ওদলাবাড়ির ‘নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার সোসাইটি’-র কোঅর্ডিনেটর নফসর আলি বলেন, ‘ভারতীয় বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন ১৯৭২ অনুযায়ী ভারতীয় অজগর শিডিউল ১ আওতাধীন সংরক্ষিত প্রাণী। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের বন্যপ্রাণী ধরা, বহন করা, প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা বা এদের বিরক্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করা উচিত।’ যাঁরা আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

