জসিমুদ্দিন আহম্মদ, পুরাতন মালদা: সয়াবিন বা ডিমের তরকারি নয়। পাতে পড়ল ভাত, রুটি, সবজি, মাংস ও শেষ পাতে চাটনি। স্কুলে এসে মিড-ডে মিলের (Mid-Day Meal) বদলে বিয়ের ভোজ (Marriage ceremony Feast) খেল কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। আর পুরাতন মালদার (Previous Malda) এই স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য এই বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করলেন স্কুলেরই মিড-ডে মিলের রাঁধুনি, চপলা মণ্ডল। ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে কর্মস্থলের পড়ুয়াদের খাওয়ালেন চপলা। তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সেই স্কুলের শিক্ষকরা।
স্কুল সংলগ্ন গ্রামেই বাড়ি চপলার। পরিবারে স্বামী সহ তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। ‘আরও আগেই স্কুলের খুদেদের খাওয়ানোর ইচ্ছা ছিল। গ্যাসের সমস্যার জন্য পারিনি। তাই এদিন খাওয়ালাম।’ বলছিলেন চপলা। বুধবার বিশেষ খাওয়াদাওয়ার খরচ যে তিনিই দেবেন, সেকথা আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। দুপুর ১টা বাজতেই থালা হাতে পড়ুয়ারা স্কুলের ডাইনিং হলে হাজির। মাংসভাতের কথা শুনে উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা। তৃতীয় শ্রেণির নরসিংহ মণ্ডল বলল, ‘মাসি আমাদের খুব ভালোবাসে। আজ মাংসভাত খেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে।’ পড়ুয়াদের পাশাপাশি খেয়েছেন শিক্ষকরাও।
হঠাৎ এমন উদ্যোগের কথা ভাবলেন কেন? চপলা বললেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে আছি। ছোট ছোট বাচ্চারা আমার পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছে। দিনে ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটাই ওদের সঙ্গে। তাই ওদের পেটভরে ভালোমন্দ খাওয়াতে ইচ্ছা হল। বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়দের যা খাইয়েছি একই মেনু করেছি স্কুলের এই বাচ্চাদের জন্য। ওদের খাইয়ে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।’
রণজিৎ মণ্ডল নামে সেই স্কুলের এক পড়ুয়ার অভিভাবক বলেন, ‘উনি যে বাচ্চাদের কতটা ভালোবাসেন, তা এই ঘটনা থেকেই বুঝতে পারলাম।’
