অরিন্দম বাগ, মালদা: কারও কাছে ‘মিনি দিঘা’ আবার কারও কাছে ‘মালদার দিঘা’। গত কয়েক বছর ধরে লোকের মুখে এই নামগুলিতে পরিচিত পুরাতন মালদার (Previous Malda) ভাটরা বিল। গ্রীষ্মকালে এই জায়গায় সর্ষে চাষ হয়। কিন্তু বর্ষাকালে জায়গাটি প্রায় সমুদ্রের আকার নেয়। এবছরও বৃষ্টির মরশুমে ভাটরা বিলে স্থানীয়দের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কোনওরকম নিরাপত্তা ছাড়াই চলছে নৌকাবিহার। ওই জায়গাটিকে পর্যটনের উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, ‘ওই এলাকায় পর্যটন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে গত বছরের একটি ঘটনার পর সেখানে যাত্রী নিয়ে নৌকা পরিবহণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।’ কোনওরকম নিরাপত্তা ছাড়া ওই জায়গায় নৌকাবিহারের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পুরাতন মালদার সাহাপুর ও যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে রয়েছে এই ভাটরা বিল। বছরের অন্যান্য সময় এই বিল শুকনো থাকলেও বৃষ্টির জল পেলে তা নিজের আকার ধারণ করে। বিলের এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। বিলের জলে প্রবল স্রোত দেখা যায়। পাড়ের দিকে ছোট ছোট ঢেউ আসে। তাই পুরাতন মালদার এই জায়গাটি লোকমুখে মালদার মিনি দিঘায় পরিণত হয়েছে। এই বছরও বর্ষার মরশুমের শুরুর থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিলের ধারে রকমারি খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
সপরিবারে এই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে এসেছিলেন মালদা শহরের ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার বছর ধরে বর্ষার সময়ে ভাটরা বিলে আসি। এই জায়গার পরিবেশ খুব ভালো লাগে।’ তাঁর মতে, ‘প্রশাসন চাইলে জায়গাটিকে পর্যটনের উপযোগী করে তুলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে প্রথমে রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়া আগাছা পরিষ্কার করে জায়গাটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে। এখানে নৌকায় করে মানুষ ঘুরছেন। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’
মঙ্গলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শুভ্রা দাস মণ্ডল জানান, এই জায়গাটি একটি পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে, তবে তার জন্য প্রথমে মহিলাদের একটি শৌচালয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সন্ধে নামতেই এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। তাই এখানে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘অনেকে নৌকায় ঘুরছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নৌকায় ঘোরার সাহস জোগাতে পারিনি।’
বছর দুয়েক ধরে এখানে ডিম টোস্ট, এগরোল, চাউমিনের ব্যবসা করছেন সঞ্জিত সাহা। তিনি জানান, বর্ষাকালে ছুটির দিনে প্রায় হাজার দেড়েক মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে শুরু করে। গত বছর কোনও কোনও দিন হাজার পাঁচেক মানুষ এখানে ঘুরতে এসেছিলেন। গত বছর এখানে সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছিল।
