পুরাতন মালদা: পুরসভার নাম করে হকার ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে তোলা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে ওই তোলা আদায়কারীর চরম বচসা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দিনের আলোয় প্রকাশ্য বাজারে এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরাতন মালদা (Previous Malda)-র মৌলপুর বাজারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌলপুর বাজারের রাস্তার ধারে ছোট ছোট সবজির দোকান বা ফুটপাতে ব্যবসা করে দিন গুজরান করেন বহু মানুষ। প্রতিবাদী যুবকের অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পুরসভার পক্ষ থেকে এ ধরনের তোলা বা চাঁদা আদায় (Extortion Allegation) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ তা সত্ত্বেও বিগত কয়েকদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গরিব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বলপূর্বক টাকা আদায় করছে। সবচেয়ে বড় কথা, টাকা নেওয়া হলেও কাউকে কোনো ধরনের বৈধ সরকারি বা পুরসভার রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদী যুবক ইতিমধ্যেই বিষয়টি পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যানের সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৌলপুর বাজারের অস্থায়ী ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের দাবি, বেশ কিছুদিন এই জবরদস্তি টাকা আদায় বন্ধ থাকলেও গত দুদিন ধরে আচমকা ফের এক ব্যক্তি হাজির হয়ে টাকা দাবি করতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট কথা, তাঁরা ফুটপাতে ছোট ব্যবসা করেন, তাই কোনোভাবেই কোনো অবৈধ টাকা তাঁরা দেবেন না। যদি নিয়মমতো নেওয়াও হয়, তবে তার বিনিময়ে পুরসভার দেওয়া বৈধ রসিদ দিতে হবে। রশিদ ছাড়া এক পয়সাও দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন পুরাতন মালদা পুরসভার (Previous Malda Municipality) চেয়ারম্যান বিভূতি ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, এই ধরনের কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই। মৌলপুর বাজারের কোনো নির্দিষ্ট বাজার কাকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এর দায়িত্ব কার হাতে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাজার থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হলে ব্যবসায়ীদের পুরসভার সঠিক রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

