Pretend Beginning Certificates | আফগান নাগরিককে ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ, মালবাজার পুরসভার প্রাক্তন কর্মী সহ গ্রেপ্তার দুই  

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


তিতাস পাল, জলপাইগুড়ি: আফগান নাগরিককে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র (Pretend Beginning Certificates) পাইয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় বড় সাফল্য পেল কালিম্পং জেলা পুলিশ। ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরির চক্রের মূল পান্ডা তথা মালবাজার পুরসভার এক প্রাক্তন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, মেটেলি এলাকা থেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আসলাম খান ওরফে আজম খান পাঠান নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে সৈয়দ বিলাল খান নামের এক আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল কালিম্পং পুলিশ। এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই আফগান নাগরিক ভারতে বৈধ পরিচয়পত্র তৈরির জন্য যে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবহার করেছিল, তা সম্পূর্ণ জাল। এই জালের উৎস খুঁজতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজরে আসে মালবাজার পুরসভার নাম।

তদন্তে উঠে আসে প্রসেনজিৎ দত্ত নামের এক ব্যক্তির নাম, যে একসময় মালবাজার পুরসভার জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগের দায়িত্বে ছিল। এর আগেও গত বছর কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আফগান নাগরিকদের ১১টি জাল জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় সে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন সংশোধনাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পায় এবং পুরসভা থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়েও সে একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।

বুধবার কালিম্পং থানার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সরাসরি মালবাজার পুরসভায় হানা দেয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তদন্তকারীরা। এরপর মালবাজার থানা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে প্রসেনজিৎ দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তৎকালীন পুরপ্রধান ও বিভাগীয় আধিকারিকদের ডিজিটাল স্বাক্ষর বা সিগনেচার জাল করে সে এই ভুয়ো শংসাপত্রগুলি তৈরি করত এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হতো।

অন্যদিকে, এই একই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মেটেলি এলাকা থেকে আসলাম খান ওরফে আজম খান পাঠান নামের অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এই ব্যক্তি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বিভিন্ন ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি করত এবং মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তা তুলে দিত। বুধবার রাতেই দুই ধৃতকে কালিম্পং নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো যোগ বা বড় কোনো র‍্যাকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *