উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’—এই প্রবাদটিই যেন মঙ্গলবার রাতে হিউস্টনের মাঠে আবারও প্রমাণ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Portugal vs Uzbekistan)। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে এবং টিমম্যান হিসেবে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের পথে পর্তুগাল অনেকটা এগিয়ে গেল।
ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় সমালোচনার সুর আরও চড়েছিল। কিন্তু এরপরই চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে। পেদ্রো নেতোর ক্রসে চলতি বলে দুরূহ কোণ থেকে গোল করে রোনাল্ডো যখন গোল উৎসব শুরু করেন, তখন হিউস্টনের স্টেডিয়ামে পর্তুগাল সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। রিজার্ভ বেঞ্চের সতীর্থদের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে সেই গোল উদযাপন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, দলের অন্দরে রোনাল্ডো এখনো কতটা অনুপ্রেরণার উৎস।
এদিনের ম্যাচে রোনাল্ডোকে কেবল গোলস্কোরার হিসেবে নয়, বরং একজন ‘টিমম্যান’ হিসেবে দেখা গিয়েছে। সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেওয়া, ডিফেন্সে নেমে সাহায্য করা এবং খেলার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত পাসের মাধ্যমে তিনি দলকে চালনা করেছেন। ব্রুনো ফের্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া থেকে তৃতীয় গোলটির ক্ষেত্রে রোনাল্ডোর বুদ্ধিমত্তার ছাপ স্পষ্ট ছিল। বল নিজের নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে চলতি বলেই শট নেওয়াটা তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই ফসল।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় স্বস্তির জায়গায় পৌঁছেছে পর্তুগাল। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত। ৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মতো আসরে নিজের গোল করার ক্ষুধা এবং পারফরম্যান্স বজায় রেখে রোনাল্ডো বার্তা দিলেন—তিনি ফুরিয়ে যাননি, বরং নিজের দিনে তিনি এখনো সেরা। উজবেকিস্তানের গোলকিপার যদি এদিন রোনাল্ডোর আরও অন্তত দুটি নিশ্চিত গোল না বাঁচাতেন, তবে হয়তো হ্যাটট্রিকও হতে পারত।
পরিশেষে বলা যায়, কঙ্গো ম্যাচের সেই ম্লান রোনাল্ডোকে এদিন মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি; বরং দেখা গেল সেই চিরচেনা লড়াকু ফুটবলারকে, যিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে জানেন।

