উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ স্বপ্ন অধরা (Portugal Vs Spain)। বিশ্বকাপও অধরা। কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের চোখে জল এনে শেষ হলো বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা মহারথী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জার্নি। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অফ ১৬-এর মেগা ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। ম্যাচের আগেই আল নাসর তারকা সি আর সেভেন (CR7) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আর সেই শেষ বিশ্বকাপ এভাবে চোখের জলে শেষ করতে হবে, তা হয়তো ভাবেননি রোনাল্ডো নিজেও।
সোমবার ভোরে আর্লিং হাল্যান্ডদের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায় এবং নেইমারের স্বপ্নভঙ্গের পর, রাতে ফুটবলপ্রেমীদের সব নজর ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দিকে। পেদ্রি-ইয়ামালদের টপকে পর্তুগিজ মহাতারকা জ্বলে উঠতে পারবেন কি না—তাই নিয়ে চলছিল তুমুল আলোচনা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে আরও একবার মন ভাঙল পর্তুগাল সমর্থকদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল একে অপরকে পরখ করে কিছুটা ধীর গতিতে আক্রমণ শানাতে থাকে। প্রথমার্ধে দুই দলের তারকাখচিত আক্রমণভাগ কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও দারুণ ছন্দে ছিলেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা। ১৬ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনার শট আটকে দুর্দান্ত ডাবল-সেভ দেন তিনি। ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের একটি শট স্পেনের ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে মরিয়া হয়ে দুই দলের কোচই পরিবর্ত খেলোয়াড় নামান। পর্তুগাল শিবিরে চোট পেয়ে ৫৪ মিনিটে নুনো মেন্দেস মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় তারা। এরপর মাঠে নামেন রাফায়েল লিয়াও ও বের্নার্দো সিলভারা। অন্যদিকে, স্পেনের কোচ ফুয়েন্তে নামান ফেরান তোরেস ও মিকেল মেরিনোকে। ৮৪ মিনিটে মাঠে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন আর্সেনাল তারকা মেরিনো।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিটে) কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডিফেন্সচেরা পাস বাড়ান ফেরান তোরেস। বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি পরিবর্ত হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। শেষের দিকে রোনাল্ডোর মরিয়া চেষ্টা সত্ত্বেও সমতা ফেরাতে পারেনি পর্তুগাল।
এই জয়ের ফলে এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটিও গোল হজম না করে শেষ আটে পা রাখল স্পেন। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন নিজের ক্লিনশিটের রেকর্ড ৬০৯ মিনিট পর্যন্ত প্রসারিত করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ গোল না খাওয়ার ক্ষেত্রে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ রেকর্ডকে ভেঙে নতুন কীর্তি গড়েছে।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর ডালাস স্টেডিয়ামের দর্শকদের করতালির মাঝেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার দীর্ঘ দুই দশকের প্রচেষ্টার এমন যবনিকা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। পরে কিছুটা সামলে নিয়ে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। আবেগপ্রবণ রোনাল্ডো এরপর দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে মাঠের টানেল দিয়ে বিদায় নেন, যার মধ্য দিয়ে চিরতরে সমাপ্তি ঘটল এক মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ অধ্যায়ের।

