Poonch: পুঞ্চে পাক গোলা প্রাণ কেড়েছে দুই যমজের, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা

Poonch: পুঞ্চে পাক গোলা প্রাণ কেড়েছে দুই যমজের, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঘোষণা হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘন্টারও বেশি সময়। কিন্তু কাশ্মীরের পুঞ্চের (Poonch) বাসিন্দা উর্ষা খানের জন্য সময়টা যেন বুধবারেই থমকে গিয়েছে। ভারতের অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পালটা তখন সীমান্তের ওপার থেকে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে পাকিস্তান (Pakistan)। জম্মু থেকে ১৪৫ মাইল দূরে ছবির মত সাজানো শহর পুঞ্চ ছেড়ে দলে দলে পালিয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ নিজের গাড়িতে, কেউ বাসে কেউবা পায়ে হেঁটেই সামান্য কিছু যা সঞ্চয় ছিল তা নিয়ে রওনা দিয়েছেন প্রাণ বাঁচাতে।

পুঞ্চের বাসিন্দা রমিজ খানের পরিবারেও তখন ঘর ছাড়ার ব্যস্ততা। যমজ সন্তান জোয়া ও আয়ান খানকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছেন রমিজের স্ত্রী উর্ষা। ক্ষণিকের জন্য কোনও একটা জরুরি জিনিস আনতে বাড়ির ভেতরে ঢুকে যান তিনি। ঠিক তখনই বাড়ির সামনের সরু গলিটায় আছড়ে পড়ে পাক গোলা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় ১২ বছরের জোয়ার। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার ভাই আয়ানের। যমজদের মা, ৩০ বছর বয়সী উর্ষা খান, সামান্য আঘাত পেয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাদের ৪৬ বছর বয়সী বাবা, রমিজ খান, প্রাণঘাতী আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জম্মুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রমিজকে জানানো হয়নি তার প্রাণের থেকেও প্রিয় দুই সন্তানের মৃত্যুর কথা। জোয়ার মা উর্ষা খান কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়েছেন৷ একদিকে একসঙ্গে যমজ সন্তানকে হারানোর শোক, অন্যদিকে হাসপাতালে স্বামীর জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ের সাক্ষী থাকা, স্বাভাবিক ভাবেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন জোয়া এবং আয়ানের মা৷ ‘আমাদের জীবদ্দশায় এমনটা হবে ভাবতে পারিনি’, বললেন মৃত দুই জমজের কাকাতো ভাই সরফরাজ মীর। ৪০ বছর বয়সী সরফরাজ, বিশ্বাস করতে পারছেন না পাকিস্তান অসামরিক এলাকাকেও এইভাবে যুদ্ধের নিশানা বানাতে পারে।

কাশ্মীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পুঞ্চ জম্মু থেকে প্রায় ১৪৫ মাইল (২৩০ কিলোমিটার) দূরে। পুঞ্চে গোলাগুলি তীব্র হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছে। ৬০ হাজার লোকের বসতি এই শহর। সম্প্রতি দুই ছেলে মেয়ের পড়াশোনার সুবিধের কথা ভেবে গ্রাম থেকে পুঞ্চে থাকতে পরিবার নিয়ে চলে এসেছিলেন রমিজ। এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্যই আফশোষ করছেন রমিজের পরিবারিক বন্ধু ফিয়াজ দিওয়ান।

পুঞ্চে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকেন হিন্দু, শিখ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এই ঘটনার পর অনেকেই মনে করছেন পুঞ্চের সম্প্রীতির পরিবেশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি হিন্দু মন্দির এবং গুরুদ্বার গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লড়াই থামলেও, শান্তি ফেরার কথা বিশ্বাস করতে পারছেননা পুঞ্চের বাসিন্দাদের অনেকেই। রাত হলেই তাই আতঙ্ক গ্রাস করছে শহরটাকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *