উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) রবিবার পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সাধারণ মানুষের নাগরিক আন্দোলনের ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকাটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মুহাম্মদ ইয়াকুব নামে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মুজাফফরাবাদ, রালাকোট, মিরপুর, দাদিয়াল সহ PoK-এর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। ‘জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-এর ডাকে এই গণ-অভ্যুত্থান চলছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ৩৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন: পাকিস্তান সরকারের সাথে করা দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ চুক্তি অবিলম্বে কার্যকর করা।
- বন্দি নেতাদের মুক্তি: আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা শওকত নওয়াজ মির (Shaukat Nawaz Mir) সহ ৬০০-এর বেশি রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি।
- অবরোধ অবসান: খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃত্রিম অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া।
- ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট তুলে নিয়ে তথ্য প্রবাহ সচল করা।
বিক্ষোভের তীব্রতায় দাদিয়াল এলাকায় পুলিশ ও রেঞ্জার্স বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। উত্তেজিত জনতা এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বিবৃতি বা হতাহতের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
গত ৩ ও ৪ জুলাই থেকেই PoK-এর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পাকিস্তান সরকার JAAC-কে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’-এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতে ইন্টারনেট ও সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটিকে কার্যত এক ‘কারাগারে’ পরিণত করেছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি প্রশাসনের এই দমননীতি এবং নির্যাতন তাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। যতক্ষণ না তাদের ৩৮ দফা দাবি মানা হচ্ছে এবং আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই গণ-আন্দোলন থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা।

