উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভার ইতিহাসে সম্ভবত এক বিরল ও উত্তাল বুধবারের সাক্ষী থাকল দেশ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু বিরোধীদের সাঁড়াশি আক্রমণে এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে বিরোধী মহিলা সাংসদদের নজিরবিহীন প্রতিবাদের জেরে শেষ পর্যন্ত ভাষণ বাতিল করতে বাধ্য হলেন স্পিকার (PM Modi Speech Cancelled)।
প্রতিবাদের উৎস ও সংঘাত: বিক্ষোভের সূত্রপাত মঙ্গলবারই। প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে রাহুল গান্ধিকে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হলে বিরোধীরা রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন। বুধবার বিকেল ৫টায় যখন প্রধানমন্ত্রী কক্ষে প্রবেশ করার কথা, ঠিক তার আগে বর্ষা গায়কোয়াড় এবং জ্যোর্তিমণির মতো বিরোধী মহিলা সাংসদরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আসনটি ঘিরে ফেলেন। তাঁদের হাতে ছিল বিশাল ব্যানার, যাতে লেখা ছিল “সঠিক কাজটি করুন” (Do what is true)। মূলত গতকাল আট বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদেই এই ‘সিট ব্লক’ কর্মসূচি।
বিজেপির অভিযোগ ও ‘হামলা’র আতঙ্ক: বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, এটি কেবল প্রতিবাদ ছিল না, বরং প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ হতে পারত। কিরেন রিজিজুর তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানান তিনি। তবে বিরোধীদের স্লোগান ছিল ২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্তে চিনা অনুপ্রবেশ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে।
অচলাবস্থায় সংসদ: একাধিকবার মুলতুবি হওয়ার পর দুপুর ১২টায় যখন সংসদ ফের বসে, তখন চিনা আগ্রাসনের ইস্যুতে স্লোগানে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। এই চরম বিশৃঙ্খলার জেরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি এখনও অনুমোদিত হতে পারেনি। সভা আগামীকাল পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছে। সংসদের অন্দরে মোদীর সিট ঘিরে এই ধরণের বিক্ষোভ ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
