উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরের অন্তিম লগ্নে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Malaysia Go to)। রবিবার কুয়ালালামপুরে তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করলেন ভারতমাতার বীর সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhash Chandra Bose)। তবে এই স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; মোদি দেখা করলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) প্রবীণ সদস্য জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে। শতায়ু ছুঁইছুঁই এই বিপ্লবীর অভিজ্ঞতা শুনে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘অনুপ্রাণিত’ ও ‘সৌভাগ্যবান’ বলে অভিহিত করেছেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল দিনগুলিতে আইএনএ-র সদস্য হিসেবে জয়রাজ রাজা রাও কীভাবে লড়াই করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই স্মৃতির ঝাঁপি উজাড় করে দেন তিনি। পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তাঁদের সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে মোদি লেখেন, “শ্রী জয়রাজ রাজা রাওয়ের জীবন অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতীক। তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে আমি গভীরভাবে আপ্লুত। নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রতিটি যোদ্ধার কাছে ভারত চিরঋণী।”
It was very particular to satisfy INA veteran Shri Jeyaraj Raja Rao.
His life is marked by immense braveness and sacrifice. Listening to his experiences was very inspiring.
We stay without end indebted to Netaji Subhas Chandra Bose, the courageous ladies and men of the INA, whose valour helped… pic.twitter.com/dVkiDgCKGL
— Narendra Modi (@narendramodi) February 8, 2026
এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির তৃতীয় মালয়েশিয়া (Malaysia Go to) সফর। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র অন্যতম স্তম্ভ হলো এই দেশ। সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করেছিলেন। মোদির এই সফর সেই ভিত্তিকে আরও মজবুত করল।
মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী গোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দুই দেশের সম্পর্কের ‘জীবন্ত সেতু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০১৫ সালের সফরে তিনি কুয়ালালামপুরে ঐতিহাসিক ‘তোরণা গেট’ উদ্বোধন করেছিলেন, যা আজও দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের সফরেও তিনি ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযোগ স্থাপন করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদির এই সফরে একদিকে যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হলো, তেমনই নেতাজির উত্তরসূরিদের সম্মান জানিয়ে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের আবেগকে নতুন করে ছুঁয়ে গেলেন।
