পতিরাম: পিঠে স্কুলব্যাগ, বয়স বড়জোর এগারো-বারো বছর। দেখলে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় নেই যে, ওই শিশুগুলির হাতে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বাজারমূল্যের একটি সোনার আংটি (Patiram discovered gold ring)! বুধবার এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পতিরাম এলাকায়। কুড়িয়ে পাওয়া সেই আংটি বিক্রি করতে দুই নাবালক একটি সোনার দোকানে হাজির হলে তাদের আচরণে সন্দেহ হয় দোকানকর্মীদের। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পুলিশের হাতে পৌঁছয়। বর্তমানে আংটি পাওয়ার দাবি কতটা সত্যি, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পতিরাম থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে পতিরামের একটি সোনার দোকানে পিঠে স্কুলব্যাগ নিয়ে ১১-১২ বছর বয়সি দুই নাবালক প্রবেশ করে। তারা দোকানের কর্মীদের একটি আংটি দেখিয়ে জানতে চায় এটি আসল সোনা কি না। এরপর স্বর্ণকার সেটি পরীক্ষা করে জানান যে আংটিটি খাঁটি সোনার। আংটিটি সোনার এ কথা শোনার পরেই সেটি বিক্রি করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ওই দুই স্কুলছাত্র।
অল্প বয়সি দুই ছাত্রের হাতে এত দামি সোনার আংটি দেখে সন্দেহ হয় দোকানকর্মীদের। তাঁরা তাদের জেরা করতে শুরু করেন। তখন ওই দুই বালক জানায়, আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমারগঞ্জের বড়ম হাটে যাওয়ার সময় রাস্তার ওপর তারা আংটিটি কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেই আংটিটিই এদিন বিক্রি করতে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি থাকায় দোকান থেকে সঙ্গে সঙ্গে পতিরাম থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পতিরাম থানার পুলিশ দ্রুত দোকানে এসে উপস্থিত হয় এবং দুই নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছেও তারা একই দাবি করে যে, বড়ম হাটে তারা এটি কুড়িয়ে পেয়েছে। এরপর পুলিশ প্রায় তিন গ্রাম ওজনের ওই সোনার আংটিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, প্রকৃত মালিকের সন্ধানে বড়ম হাট ও তার আশপাশের এলাকায় কেউ আংটি হারিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দোকানের কর্মী রাহুল সরকার জানান, ‘‘দুটো বাচ্চা ছেলে আংটি নিয়ে আসাতেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। জিজ্ঞেস করতেই ওরা জানায়, মঙ্গলবার বড়ম হাটে আংটিটি কুড়িয়ে পেয়েছে। এরপর আমরা পতিরাম থানায় খবর দিই। পুলিশ এসে আংটিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। আংটিটির ওজন প্রায় তিন গ্রামের মতো।’’ সত্যি কি আংটিটি কুড়িয়ে পাওয়া, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনা রয়েছে—এখন তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

