Patiram | বোল্লা রক্ষাকালীর পুজো ঘিরে বাতাসা তৈরিতে ব্যস্ত পতিরাম, উদ্বেগে স্থানীয় কারিগরেরা

Patiram | বোল্লা রক্ষাকালীর পুজো ঘিরে বাতাসা তৈরিতে ব্যস্ত পতিরাম, উদ্বেগে স্থানীয় কারিগরেরা

শিক্ষা
Spread the love


পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার ঐতিহ্যবাহী বোল্লা রক্ষাকালীর পুজো (Bolla Kali Puja 2025) হতে আর আটদিন বাকি। পুজোকে কেন্দ্র করে এখন জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ। উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরা ইতিমধ্যেই পুজোয় শামিল হতে শুরু করেছেন প্রস্তুতি। প্রতি বছরই এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ থাকে ভোগে ব্যবহৃত বাতাসা। বোল্লামেলা চত্বরে কয়েক হাজার কুইন্টাল বাতাসা বিক্রি হয় পুজোর চারদিনে। তাই পতিরাম এবং আশপাশের এলাকাগুলিতে এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় কারিগরেরা।

পতিরামের কলেজপাড়া, কদমতলি, হারপুর ও পারপতিরাম সহ বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগররা বর্তমানে বাতাসা তৈরির কাজে ব্যস্ত। পুজোর ভোগে বাতাসা ছাড়াও খাজা, ছাঁচকদম, জাম সহ চিনির তৈরি নানান উপাদান তৈরি হচ্ছে জোর কদমে। ভাইফোঁটার পর থেকেই বোল্লা রক্ষাকালী পুজোর বাতাসা তৈরির কাজ শুরু হয়। কেউ এগুলি পাইকারি বাজারে বিক্রি করবেন, আবার কেউ বোল্লা মেলায় সরাসরি দোকান খুলে বিক্রির করেন।

তবে, বাতাসা বিক্রি আগের মতো নেই। জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা বোল্লা এলাকায় নিজস্ব কারখানা স্থাপন করায় পতিরাম ও আশপাশের স্থানীয় কারিগরদের পাইকারি বিক্রিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। পতিরাম কলেজ পাড়ার নরেশ মন্ডল, কদমতলির কৃষ্ণ সাহা, হারপুরের সুদেব হালদার ও পারপতিরামের স্বপন ঘোষ জানান, ‘আগে চল্লিশ-পঞ্চাশ কুইন্টাল বাতাসা তৈরি করতাম, এখন দশ-পনেরো কুইন্টাল বানাতেই ভয় লাগে। কারণ খরচ বাড়ছে, কিন্তু লাভ আগের মতো নেই।’

তাদের অভিযোগ, ৪৪০০–৪৫০০ টাকা দরে ভালো মানের চিনি এবং ৬০০–৭০০ টাকা দরে কাঠ কিনতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। তার সঙ্গে শ্রমিক মজুরি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ যোগ হয়ে লাভের পরিমাণ ক্রমেই কমছে। অন্যদিকে, বাইরের ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় কারিগরদের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। বাতাসা তৈরিতে অনেক শ্রমিক কাজ করে চলেছেন। যার বেশিরভাগ অংশ বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষি শ্রমিক ও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন থাকেন। বোল্লা মেলার আগে তারা বাতাসা তৈরিতে কারিগরের সহকারী হিসেবে কাজ করে বাড়তি আয়ও করেন।

তবুও বাতাসা তৈরির ব্যবসায়ীরা আশা হারাতে চান না। এবারের পুজো উপলক্ষ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বোল্লা রক্ষাকালীর পুজোর সময় বাতাসার ভালো বিক্রি হবে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরূপ চক্রবর্তী জানান, ‘বোল্লা মেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল মানুষই বাতাসা ভোগ দেন। কয়েক হাজার কুইন্টাল বাতাসা বেচাকেনা হয় পুজোর চারদিনে।’

সব মিলিয়ে, ভক্তি ও ঐতিহ্যের এই পুজো ঘিরে একদিকে যেমন ব্যস্ততা, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে স্থানীয় কারিগরদের মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। বোল্লার রক্ষাকালীর পুজোর বাতাসা এবারও ভোগে মিষ্টি আনন্দ বয়ে আনলেও, সেই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে স্থানীয় শিল্পের টিকে থাকার লড়াই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *