Pardubi ration store controversy | রেশন থেকে তুলেই ফের ডিলারের কাছে বিক্রি! গ্রাহকদের কাছ থেকে গম কেনার অভিযোগে আটক ২  

শিক্ষা
Spread the love


পারডুবি: সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের বিলি করা রেশন সামগ্রী হাতবদল হয়ে সরাসরি ডিলারের কাছেই ফের বিক্রির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল (Pardubi ration store controversy)। মাথাভাঙা ২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের এগারোমাইল এলাকায় রেশন দোকানের চত্বরেই এই অবৈধ কারবার চলছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের প্রতিবাদের জেরে রবিবার এই ঘটনায় পুলিশ এসে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার কিছু অসাধু রেশন গ্রাহক সরকারি দোকান থেকে রেশন তোলার পর সেই সামগ্রী (বিশেষ করে গম) বাইরে বিক্রি করে দেন। আর এই চক্রের পেছনে রয়েছে একশ্রেণির ফরেয়া, পাইকার ও অসাধু দালাল চক্র। স্থানীয় বাসিন্দা অনুকূল মণ্ডল, ননীগোপাল দাস ও সত্যেন বর্মনদের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়া নজরদারির অভাবেই এই কালোবাজারি দিনের পর দিন রমরমিয়ে চলছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ, রেশন দোকান থেকে চাল ও গম বিতরণের পরক্ষণেই খোদ ডিলারের লোকজন বা দালালরা সেই সমস্ত সামগ্রী কম দামে কিনে নেয় এবং পরে চড়া দামে অন্যত্রে পাচার করে। এদিনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি তোলেন। বিজেপির স্থানীয় নেতা দিলীপ বিশ্বশর্মাও প্রশাসনের কাছে পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেশন গ্রাহক অবশ্য বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছেন, ‘‘রেশন থেকে যে চাল ও গম দেওয়া হয়, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। চাল অত্যন্ত মোটা এবং তাতে পাথর মেশানো থাকে, যা মুখে দেওয়া যায় না। বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে আমরা সেই রেশন কম দামে বিক্রি করে দিই।’’ অন্যদিকে, কিছু ফরেয়া বা পাইকারও স্বীকার করেছেন যে, গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় বিক্রি করতে এলে তাঁরা তা কিনে নেন এবং পরে অন্যত্র বিক্রি করেন।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট রেশন দোকানের ডিলার সুশীল ভৌমিক দাবি করেছেন, ‘‘রেশন দোকানে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সরকারি সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। উলটে এদিন বাইরে থেকে এক ব্যক্তি এসে যখন রেশন সামগ্রী কিনছিলেন, তখন আমরা তার প্রতিবাদ ও বাধা দিই। সেই কারণেই হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চক্রান্ত করা হচ্ছে।’’

ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রেশন দোকানের এক কর্মীকে এবং চত্বরে উপস্থিত এক ক্রেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই অবৈধ কালোবাজারির নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্লক খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *