উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) ইসলামাবাদে (Islamabad) ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে থেকে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ও পার্কিং পোল সরিয়ে নেওয়ার তিন দিনের মাথায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার দিল্লির চাণক্যপুরীর কূটনৈতিক ছকে অবস্থিত পাকিস্তানি হাই কমিশনের বাইরে (Pak Excessive Fee) অননুমোদিতভাবে তৈরি বেশ কিছু কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অংশগুলি হাই কমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল।
এদিন সকালে হাই কমিশনের ঠিক বাইরে থাকা পাকিস্তানি দূতাবাসের ভিসা সেকশনের কিউ-ম্যানেজমেন্ট ইনস্টলেশন ও বাইরের দেওয়ালের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ)। তাতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের হাই কমিশনের সামনে ভাঙা কিছু ধাতব রেলিং, খোয়া, সিমেন্টের চাঁই পড়ে রয়েছে।কমিশনের বাইরে পাকা চত্বরে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা মেটালের রেলিং, গেট, টিনের চাল, ইট ও কংক্রিটের স্তূপ। সার্ভিস উইন্ডোর চারপাশের অংশ এবং সাদা মেটালের ফেন্সিং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তানি হাই কমিশনের মূল প্রবেশদ্বার এবং তার মাথায় থাকা ঐতিহ্যবাহী গম্বুজ ও ধাতব প্রতীক অক্ষত রয়েছে।
গত এক বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতির জেরে এই ধরনের পালটা পদক্ষেপ বারবার সামনে এসেছে। এর আগে গত বছর পাহেলগাঁও-এর সন্ত্রাসী হামলার পর নয়াদিল্লি কঠোর পদক্ষেপ করে। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে একাধিক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে যেমন পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, তেমনই আত্তারির ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট বন্ধ করে দেওয়া এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাই কমিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ জন থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনা হয়। তার জবাবে পাকিস্তানও তাদের আকাশসীমা ভারতীয় বিমানগুলির জন্য বন্ধ করে দেয় এবং স্থল সীমান্ত পারাপার স্থগিত রাখে। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল।

