উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উদযাপনের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah)। শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালে যদি কেন্দ্রের মোদী সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বীকৃতি ও রাজ্যের তকমা (Particular Standing & Statehood) কেড়ে না নিত, তবে আজকের দিনে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর সাধারণ মানুষ ভারতের সঙ্গে যোগদানের জন্য আরও অনেক আগেই সোচ্চার হতেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তপারের সাধারণ মানুষ যখন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন এবং সেখানে পুলিশি দমনপীড়নে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তখন তা দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। ১৯৪৭ সালের উপজাতীয় হানাদারদের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি জনগণের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে পূর্বসূরিরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তারই সঠিক মূল্যায়ন করছে। পাশাপাশি, বিধানসভায় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর-এর জন্য নির্ধারিত আসনগুলি যে ফাঁকা রাখা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গেও তিনি আলোকপাত করেন। ওমার জানান, তিনি আশা করেন কোনও দিন এই আসনগুলি পূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা (Sunil Sharma) ওমরের এই বক্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতা দিবসের মতো পবিত্র দিনে নিজের সরকারের কাজের খতিয়ান না তুলে রাজনৈতিক প্ররোচনা ছড়ানোই মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সমস্ত বিতর্কের মাঝেই ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যের মর্যাদা তথা হারানো সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তাঁর সরকার অবিচল থাকবে।

