North bengal catastrophe | কৃষি ও সেচের ব্যাপক ক্ষতি উত্তরে

North bengal catastrophe | কৃষি ও সেচের ব্যাপক ক্ষতি উত্তরে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার ও শুভাশিস বসাক, জলপাইগুড়ি ও ধূপগুড়ি : গত ৫ অক্টোবরের প্লাবনে জলপাইগুড়ি জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর, আলিপুরদুয়ার জেলার ৩০০০ হেক্টর ও পাহাড় মিলিয়ে মোট ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি দপ্তরের মৃত্তিকা বিভাগের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, জলে ডুবে থাকা ওই জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জমি থেকে জল নেমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে এই বিশাল পরিমাণ জমিতে পলি, কাদা, বালি ও ডলোমাইটের আস্তরণ পড়েছে।

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও শিলিগুড়ির প্লাবন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় চারজন সিনিয়ার ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব িদয়েছে সেচ দপ্তর। তিন জেলা ও শিলিগুড়ি মহকুমায় নদীখাত, নদীবাঁধ, ভূমিক্ষয়, স্পারবাঁধ, গাইড বাঁধের কোথায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা সমীক্ষা করছেন তঁারা। আপাতত অস্থায়ীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে স্থায়ী পরিকল্পনার ডিপিআর তৈরি করে তঁারা সেচ দপ্তরে পাঠাবেন।

জলপাইগুড়ি জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হওয়ায় এখানেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে কৃষি দপ্তর। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজও ইতিমধ্যে প্রায় শেষ। বাকি এলাকায় শিবির করে শস্যবিমার আবেদন করানো হচ্ছে। সোমবার নাগরাকাটায় এসে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে যান কৃষিজমিতে জমে থাকা ডলোমাইটের আস্তরণ তুলে কৃষিজমিকে চাষের উপযোগী করে তুলতে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঘুেরছেন রাজ্য কৃষি দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং িমনা। তাঁর কথায়, ‘প্রথমদিকে যে জমিগুলি দেখে ক্ষতিগ্রস্ত মনে হচ্ছিল, তার অনেকটা এলাকায় ফসল বঁাচানো গিয়েছে। কিন্তু কিছু জায়গায় ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকরা তার রিপোর্টও পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যে কাদের জমিতে ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেটাও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিমার আওতায় সকলকে আনার চেষ্টায় প্রচার, ক্যাম্প করা  হচ্ছে।

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে কীটনাশক, অনুখাদ্যও বিলি করা হচ্ছে। চাষযোগ্য জমির জন্য দপ্তর থেকে সর্ষে এবং বিভিন্ন ডালের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ও মাদারিহাটে তোর্ষা ও শিসামারা নদীর বাঁধ, গাইড বাঁধ, ভূমিক্ষয়ে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির আমগুড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীর ডানদিকের বাঁধে পঁাচটি জায়গায় বড়রকমের ক্ষতি হয়েছে। নদীর বুকে বিশাল বিশাল গর্ত হয়ে গিয়েছে। সেগুলি  ভরাট করে নদীর প্রবাহকে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাথাভাঙ্গার গিলাইডাঙ্গা বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ডায়না, গাঠিয়া, কুজি ডায়নার বাঁধ, সেতু ও সংলগ্ন রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

সেচ দপ্তরের থেকে জলপাইগুড়ি জেলায় সমীক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন মালদা (নর্থ) ডিভিশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে। এখন কিছু ডাইভারশন করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *