উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকা (US) সহ ইউরোপের একাধিক দেশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) অভিবাসন নীতি, রূপান্তরকামীদের অধিকার হরণ এবং বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের (Iran Warfare) প্রতিবাদে শনিবার আয়োজিত হল বিশাল ‘নো কিংস’ র্যালি (No Kings Protests)। আয়োজকদের দাবি, আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।
এবারের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনেসোটা। সেখানে সেন্ট পলের ক্যাপিটল চত্বরে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়। উল্লেখ্য, ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে দুই আন্দোলনকারীর মৃত্যুর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিবাদীদের সংহতি জানাতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিন। তিনি তাঁর ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ গানটির মাধ্যমে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘এই প্রতিক্রিয়াশীল দুঃস্বপ্ন এবং মার্কিন শহরগুলিতে আগ্রাসন আমরা মেনে নেব না।’
শুধুমাত্র ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত শহর নয়, ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইডাহোর মতো জায়গাতেও মানুষ রাজপথে নেমেছেন। সান ডিয়েগোতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের পদযাত্রা দেখা গেছে। ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে বিক্ষোভকারীরা ‘নো কিংস’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলেন। অনেকের হাতেই ছিল উলটো করা মার্কিন পতাকা, যা জাতীয় সংকটের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আমেরিকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে লন্ডন, প্যারিস ও রোমেও। লন্ডনে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ ব্যানারে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। রোমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিচারবিভাগীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে এবং ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন।
যদিও এই বিশাল জনসমুদ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে এই আন্দোলনকে ‘বামপন্থী অর্থায়নে পরিচালিত নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। রিপাবলিকানদের দাবি, এটি আদতে ‘হেট আমেরিকা র্যালি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে সমালোচনার তোয়াক্কা না করে প্রতিবাদীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তাঁদের এই লড়াই চলবেই।
