ফাঁসিদেওয়া: ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা। বুধবার দুপুরে শিলিগুড়ির মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে সরানোর দাবিতে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন ৯ জন সদস্য (No Confidence Movement)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন সংখ্যা ২১। এর মধ্যে ২ জন বিজেপির, ১৮ জন তৃণমূলের এবং ১ জন নির্দল সদস্য রয়েছেন (যিনি পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন)। এদিন ৯ জন সদস্য একযোগে অনাস্থা জমা দেওয়ায় সমিতির বর্তমান সমীকরণ নতুন মোড় নিল।
এই প্রসঙ্গে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির এক খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রণবেশ মণ্ডল জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত সমিতির জনা কয়েক সদস্যের কারণে উন্নয়ন মূলক কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। সে কারণেই তিনি সহ ৯ জন সদস্য সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। তবে তারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন নাকি নির্দল হয়ে থাকবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি।
যদিও অনাস্থা জমা দেওয়া সদস্যরা এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে চলেছেন। সভাপতিকে সরানোর এই দাবি কি নতুন করে ক্ষমতার হাতবদলের ইঙ্গিত? সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর থেকেই ফাঁসিদেওয়ার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ কীভাবে আগামী দিনে রূপ নেয় এবং সভাপতি তার নিজের গদি বাঁচাতে কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শাসক ও বিরোধী সব পক্ষই। মহকুমা শাসকের কাছে এই অনাস্থা জমা হওয়ার পর পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
