তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: স্টেশনে প্রবেশের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই আগে নজরে পড়ত বড় স্ক্যানার। নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যান করা হত। কিন্তু এখন আর সেই বালাই নেই। অনেকদিন আগে স্ক্যানার খারাপ হলেও মেরামতের কোনও উদ্যোগ নেই। প্রায় দিনই খারাপ হচ্ছে লিফটও। লিফট বন্ধ থাকলে সমস্যায় পড়ছেন প্রবীণ যাত্রীরা। বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন যখন দেখছে উত্তরবঙ্গ, তখন এমন পরিস্থিতি নিউ জলপাইগুড়ি জংশন বা এনজেপিতে (NJP)। অথচ স্টেশনটি নাকি বিশ্বমানের গড়ে তোলা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্টেশনে এক কিশোর যাত্রী লিফটে আটকে পড়েছিল। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে রেলের প্রযুক্তিগত টিম ও রেলকর্মীরা পৌঁছে লিফটের ত্রুটি মেরামত করে কিশোরকে লিফট থেকে বের করেন। যদিও এনজেপিতে এমন ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও অনেক যাত্রীকে এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অভিযোগ, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক যাত্রীর কটাক্ষ, ‘এনজেপি তো বিশ্বমানের গড়ে উঠছে। বিমানবন্দরের মতো সুবিধা মিলবে। কিন্তু তা শুধু আটকে বিজ্ঞাপনেই।’
পর্যটন মরশুমে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এনজেপি হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন। এর বাইরেও প্রচুর যাত্রী এনজেপিতে আসেন এবং এখান থেকে ট্রেনে ওঠেন। পরিষেবা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর সফট টার্গেট এনজেপি। এরপরও দিনের পর দিন কেন খারাপ থাকবে স্ক্যানার, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। দিল্লি থেকে দার্জিলিং পাহাড়ে ঘুরতে আসা শ্রীবাস্তব আগরওয়াল বলেন, ‘স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বারে কোনও লাগেজ স্ক্যানার নেই। এমনকি ম্যানুয়াল চেকিংও হচ্ছে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়?’
প্রায় সময় লিফট খারাপ থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় প্রবীণ, অসুস্থ এবং সঙ্গে ভারী লাগেজ থাকা যাত্রীদের। বর্ধমান থেকে সিকিম ঘুরতে এসে অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ‘এখানকার লিফট মাঝেমধ্যে খারাপ থাকে শুনেছি। তাই ভয়ে ঝুঁকি না নিয়ে লাগেজ নিয়ে সিঁড়ি ভাঙলাম। বয়স হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হলেও, কিছু তো করার নেই।’ যদিও লিফট খারাপের জন্য যাত্রীদের একাংশকে দায়ী করেছে রেল। রেল আধিকারিকদের বক্তব্য, রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক থাকলেও অনেক যাত্রী ঠিকমতো লিফট ব্যবহার করেন না। যে কারণে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিচ্ছে। যাত্রীদের সমস্যা নিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে এনজেপির আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। সেজন্য যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে কিছুদিনের মধ্যে স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্ক্যানার সমস্যা মেটানো হবে।’
উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এনজেপি কবে নিরাপত্তার বলয়ে থাকবে এবং যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত হবে, সেদিকেই এখন নজর যাত্রীদের।
