প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: ট্রেনে মদ পরিবহণ বা বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। অথচ চলন্ত ট্রেনেই মদ বিক্রি করছিলেন রণধীর পাসোয়ান। আর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন (New Alipurduar station) এলাকায় ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করল জিআরপি। রণধীর চলন্ত ট্রেনে বিভিন্ন কামরায় ঘুরে ঘুরে মদ বিক্রি করতেন বলে জানতে পেরেছে জিআরপি। পাশাপাশি, ওই তরুণ অসম থেকে বিহারে মদ পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলেও জিআরপি আধিকারিকরা মনে করছেন। জিআরপির আলিপুরদুয়ারের আইসি অনুপ ঘোষ বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে মদ বিক্রি সহ সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন যাত্রীর মুখে এমন অভিযোগ শোনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু হয়েছে।’
অসম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে মদের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক জায়গার থেকে কম। তাই এই রাজ্যগুলি থেকে মদ নিয়ে অন্যত্র পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাচারের ক্ষেত্রে ট্রেন ব্যবহারের প্রমাণও অতীতে একাধিকবার মিলেছে। বাড়তি রোজগারের আশায় পুরুষের সঙ্গে মহিলারাও মদ পাচারে নিজেদের জড়িয়েছেন বা তাঁদের কাজে লাগাচ্ছে পাচারচক্র। ইতিমধ্যে প্রচুর পরিমাণ মদ উদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু পাচার বন্ধ হয়নি। তবে এর আগে চলন্ত ট্রেনে মদ বিক্রির অভিযোগ তেমন ওঠেনি। বিশেষ করে ট্রেনে টিকিট পরীক্ষক এবং আরপিএফের নজরদারি থাকায় কেউ মদ বিক্রির সাহস দেখান না। ফলে রণধীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে জিআরপি। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পিঠের ব্যাগে মদ নিয়ে যাত্রীবেশে ট্রেনে ওঠেন রণধীর। ভিড়ে মিশে যাত্রীদের মন মানসিকতা বুঝে নিয়ে খদ্দের ধরেন এবং চড়া দামে মদ বিক্রি করেন। যে কোচগুলিতে বেশি ভিড় থাকে বা ভিড়ে ঠাসা স্পেশাল ট্রেনগুলিকে রণধীর টার্গেট করতেন বলে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিককালে পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁর ক্রেতা বলে জিআরপি জানতে পেরেছে। জানা গিয়েছে, রণধীরের সম্পর্কে কিছুদিন ধরেই যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাচ্ছিল জিআরপি। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার নির্দিষ্ট একটি ট্রেনের অপেক্ষায় থাকে জিআরপি। ট্রেনটি নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে পৌঁছাতেই রণধীরকে প্রথমে আটক এবং পরে গ্রেপ্তার করে জিআরপি।
