নিউজিল্যান্ড: ৩৩৭/৮ (মিচেল ১৩৭, ফিলিপস ১০৬, অর্শদীপ ৬৩/৩)
ভারত: ২৯৬/১০ (কোহলি ১২৪, নীতীশ ৫৩, কৃষ ক্লার্ক ৫৪/৩)
৪১ রানে পরাজিত ভারত।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে।
আরও পড়ুন:
যতক্ষণ কোহলি, ততক্ষণ শ্বাস। এখনও অসাধ্যসাধন করতে ভরসা বিরাট ব্যাটই। রান তাড়া করতে আজও তিনি ‘চেজমাস্টার’। সব ম্যাচে হয় না। এদিন ইন্দোরে তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হল না। রানের পাহাড় তাড়া করতে দুয়েকজন সঙ্গ দিলেন ঠিকই। তবে সেটা যথেষ্ট ছিল না। কোহলি আউট হলেন ১২৪ রানে। আর তারপরই ভারত ম্যাচ হারল ৪১ রানে। ৩৩৮ রান তাড়া করতে নেমে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে গেল ২৯৬ রানে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারলেন শুভমান গিলরা। এই প্রথমবার ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। কোহলির ফর্ম ছাড়া অনেক কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের বছর শুরু হল।
আরও পড়ুন:
প্রথম প্রশ্ন অবশ্যই বোলিং। জশপ্রীত বুমরাহ না থাকলে এই দলটার বোলিংয়ে কোনও আত্মবিশ্বাস আছে কি? অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানারা ৩ উইকেট নিলেন ঠিকই। কিন্তু রান বিলোলেন। তুলনায় কম রান দিলেন মহম্মদ সিরাজ। আরও একটি ম্যাচ উইকেটশূন্য থাকলেন রবীন্দ্র জাদেজা। এই সিরিজের পর কিন্তু জাদেজার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠতে বাধ্য। পিছনে অক্ষর প্যাটেলের মতো ক্রিকেটার সুযোগের অপেক্ষা করছেন। একটু চাপ পড়লেই লাইন ভুলছেন কুলদীপ যাদব। সব মিলিয়ে বোলিংয়ে শৃঙ্খলার অভাব। যার সুযোগ নিতে বিন্দুমাত্র ভুল করলেন না ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস। এই মুহূর্তে কেরিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন মিচেল। এদিন ১৩১ বলে ১৩৭ রান করে যান। অন্যদিকে গ্লেন ফিলিপস ৮৮ বলে ১০৬ রান করেন। ৫ রানে ২ উইকেট থেকে কিউয়িদের ইনিংস শেষ হয় ৩৩৭ রানে।
এই রানটা তাড়া করা কঠিন। তবে ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিংয়ের জন্য অসাধ্য নয়। কিন্তু আচমকাই যেন ‘মিডাস টাচ’টা হারিয়েছেন রোহিত শর্মা। সাবধানে খেলছেন। দলে জায়গা নিয়ে কি এখনও সংশয়ে আছেন? যাই হোক না কেন, তা দল ও হিটম্যান দুজনেরই ক্ষতি করছে। এদিন ফিরলেন মাত্র ১১ রানে। গোটা সিরিজজুড়েই রানের দেখা পাননি। একই অবস্থা অধিনায়ক শুভমান গিলেরও (২৩)। প্রশ্ন উঠবেই, আদৌ কি ওয়ানডেতে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি তিনি? কারণ, এর আগে রোহিত-কোহলি-ধোনিরা সামনে থাকে নেতৃত্ব দিতেন। ফিল্ডিংয়ের সময় উদ্ধুদ্ধ করতেন। সঙ্গে রান করতেন। গিল দুটোর কোনওটাই করছেন না।
এখন প্রশ্নটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোহলিকে সঙ্গ দেবেন কে? শ্রেয়স আইয়ারও কেমন খেই হারিয়েছেন। বড় চোট থেকে ফেরার পর প্রথম ওয়ানডেতে রান পেয়েছিলেন। বাকি দুটো ওয়ানডেতে ব্যাট কথা বলল না। কেএল রাহুল এদিন মাত্র ১ রানে আউট। বড় রান তাড়া করতে দরকার পার্টনারশিপ। একদিকে কোহলি, অন্যদিকে শুধু যাওয়া-আসা। জুটিটাই হল না। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও দুর্দশা অব্যাহত জাদেজার। বরং গম্ভীরের ‘পছন্দের’ দুই তরুণ তুর্কি নীতীশকুমার রেড্ডি ও হর্ষিত রানা হাফসেঞ্চুরি করে লড়াই চালিয়ে গেলেন। বিশেষ করে বলতে হয় হর্ষিতের কথা। নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে তৈরি করছেন। বড় শট হাঁকাতে পারেন। বলে যা রান দিয়েছেন, তা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এবং কোহলি। আজও ভারতীয় ক্রিকেটের একক যোদ্ধা। কে বা কারা যেন মাঝে চেষ্টা করেছিল, বিরাট কোহলিকে বাদ দিতে। বাদ? বিরাটের একটাই মতবাদ- রান করে যাও, সমালোচকরা নিজে থেকেই চুপ করে যাবে। এদিনের ১০৮ বলে ১২৪ রানের ইনিংসটা থেকে তরুণ ক্রিকেটাররা শিখতে পারেন, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়। কীভাবে প্রতিপক্ষকে পালটা চাপে ফেলতে হয়। দ্রুত গতিতে স্ট্রাইক রোটেট করতে ৩৭ বছরের কোহলির জুড়ি মেলা ভার। বাউন্ডারির বাইরে বল ফেলতে আজও সমান দক্ষ। কেরিয়ারের ৮৫তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির পথে মারলেন ১০টা ও ৩টে ছয়। কিন্তু ক্রিকেট তো একার খেলা নয়। কোচ গৌতম গম্ভীর আশা করি সেটা বুঝতে পারছেন। আর না বুঝলে ২০২৭ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখাটাই বিলাসিতা হয়ে যেতে পারে দেশের ক্রিকেটভক্তদের।
সর্বশেষ খবর
