খড়িবাড়ি: নেপাল থেকে ৭ জন তরুণীকে ভারত হয়ে হংকংয়ে পাচারের পথে ধরা পড়ল দুই পাচারকারী। ধৃতরা বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারের ছক কষেছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার বিকেলে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত লাগোয়া পানিট্যাঙ্কি এলাকা থেকে এসএসবি উদ্ধার করে তরুণীদের। এরা প্রত্যেকেই নেপালের সানখুয়াসাভা জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের নাম দীপেশ গুরুং ও জাপান গুরুং। দীপেশের বাড়ি দার্জিলিং জেলার বেলগাছি এলাকায়। জাপান গুরুং নেপালের সানক্ষুয়াসাভা জেলার বাসিন্দা। এদিন রাতেই ধৃত দুই মানব পাচারকারীকে তুলে দেওয়া হয়েছে খড়িবাড়ি পুলিশের হাতে। শনিবার তাদের তোলা হয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে।
জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে প্রহরা দেওয়ার সময় ভারত নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি বাজার এলাকায় সন্দেহজনক একটি গাড়ি আটক করে এসএসবি। সেই গাড়িতে ছিলেন ৭ জন তরুণী ও দুই যুবক। তরুণীদের প্রত্যেকের বয়স ১৬ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। সেই গাড়িটি আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এসএসবি আধিকারিক ও গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানাতে পারেন, ৭ তরুণীর বাড়ি নেপালের সানখুয়াসাভা জেলায়। নেপালের বাসিন্দা হলেও তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ভারতের আধারকার্ড, প্যানকার্ড ও পাসপোর্ট। এদের নেপাল থেকে হংকংয়ে নিয়ে গিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাচারকারীরা। এরজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১লক্ষ টাকা করে নিয়েছে বলে জেরায় স্বীকার করেছেন পাচারকারীরা।
এসএসবির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃতরা আন্তর্জাতিক মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত। জেরায় হংকংয়ে এই পাচার চক্রের আরও এক ব্যক্তির হদিস পেয়েছে এসএসবি। এর আগেও একই কায়দায় বেশ কয়েকজন মেয়েকে পাচার করেছে চক্রটি। ধৃত এক পাচারকারী জাপান গুরুংয়ের মোবাইলে বেশকিছু মেয়ের ছবি, ভিডিও ও জাল নথি পেয়েছে তদন্তকারীরা।
এসএসবি আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার গভীররাতে মানব পাচারকারী সন্দেহে ধৃত দুই সহ উদ্ধার হওয়া ৭জন তরুণীকে খড়িবাড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খড়িবাড়ি পুলিশ অভিযুক্ত পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। আজ ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে খড়িবাড়ি পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
