NEET-successful Ataul goals of turning into a heart specialist

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


চোখে ছেলেকে ডাক্তার করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণ করতে বছরের অধিকাংশ সময়ই ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন বাবা। আর বাবার সেই ঘাম, পরিশ্রম ও ত্যাগকে সাফল্যের মঞ্চে তুলে ধরলেন নানুরের গোপডিহি গ্রামের আতাউল রহমান। নিট পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৭৯৫৫ এবং রাজ্যের মেধাতালিকায় ১৭৯ স্থান অর্জন করলেন আতাউল রহমান। ছেলের সাফল্যে আনন্দে চোখে জল শ্রমিক বাবার। আতাউলের এই ফলাফলে গর্বিত গ্রামের মানুষজনও।

অভাবের সংসারে রয়েছে মাত্র তিন বিঘা চাষের জমি। সেই জমির আয়ে দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই ছেলের ভবিষ্যৎ গড়তে চেন্নাইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন বেছে নিয়েছিলেন আতাউলের বাবা কামরুল হাসান শেখ। সেখান থেকেই প্রতি মাসে সংসার চালানোর জন্য টাকা পাঠান। মাঝেমধ্যে ছুটি নিয়ে বীরভূমের নানুরের বাড়িতে আসেন তিনি। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে আতাউল। এরপর নানুরের পাপুড়ি আল আমিন মিশন থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর নিয়ে পাশ করা। হাওড়ার একটি স্কুল থেকে ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন আতাউল।

আরও পড়ুন:

ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার চোখে। লক্ষ্য একটাই, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া। প্রবল কষ্ট, সংকটের মধ্যেও নিজের সংকল্প থেকে কখনও সরে যায়নি সে। উচ্চ মাধ্যমিকের সময় থেকেই নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেয় আতাউল রহমান। এবার নিট পরীক্ষায় বসে মিলল এই সাফল্য। তবে নিজের স্বপ্নের থেকেও বড় বাবাকে ঘরে ফেরানোর আকাঙ্ক্ষা।

আতাউলের কথায়, “ডাক্তার হয়ে বাবাকে ভিন রাজ্য থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাই।” ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা কামরুল। তাঁর কথায়, “ওরা প্রতিষ্ঠিত হোক, মানুষের মতো মানুষ হোক—এটাই আমার চাওয়া।” মা শোভা বেগমও চান, ছেলে বড় ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠুক সাধারণ মানুষের ডাক্তার। আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আতাউলের সাফল্য যেন এক পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রথম বড় জয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *