গৌরহরি দাস, কোচবিহার: বেতন বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের সাগরদিঘির পাড়ের ভবনে নিগমের কনট্রাকচুয়াল কনডাক্টর ও মেকানিকদের আন্দোলন (NBSTC Staff Protest) বৃহস্পতিবার চারদিনে পড়ল। লাগাতার এই আন্দোলনের জেরে নিগমের বিভিন্ন কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কারণ আন্দোলনকারীরা খাতায়-কলমে কনট্রাকচুয়াল কনডাক্টর কিংবা মেকানিক হলেও এঁদের অধিকাংশই মূলত নিগমের পরিবহণ ভবনে অফিশিয়ালি কাজকর্ম করেন। আর তাতেই সমস্যা বাড়ছে। এভাবে লাগাতার আন্দোলন চললে এবং শীঘ্রই সমস্যা না মিটলে আগামীদিনে নিগমের কাজে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই এনিয়ে বলেন, ‘কর্মীরা কাজ না করায় সমস্যা হচ্ছে। নিজেরা যতটা সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কাজের গতি কমে যাচ্ছে। ওঁদের দাবির বিষয়টি অর্থ দপ্তরে আমরা জানিয়েছি। অনুমোদন না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই।’
এনিয়ে নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় (Partha Pratim Ray) বলেন, ‘দাবির বিষয়টি আমরা আগেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আবারও ওঁদের আবেদন পাঠাচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির পাড়ে পরিবহণ ভবনে গিয়ে দেখা গেল ভবনের একেবারে সামনে শতাধিক কর্মী বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, নিগমের কনট্রাকচুয়াল গাড়ির চালকদের সঙ্গে তাঁরাও একই মেমো নম্বরে, একই বেতনে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে চালকদের বেতন বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হলেও তাঁদের বেতন ১৩ হাজার ৫০০ টাকাই রয়ে গিয়েছে। এরপর থেকে তাঁরা তাঁদের বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
নিগম কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বেতন বাড়ানো হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনকারীরা যেহেতু পরিবহণ ভবনের অফিশিয়ালি কাজকর্ম করেন, তাই বর্তমানে পরিবহণ ভবনের অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন কাজকর্ম আটকে রয়েছে। যে সব কর্মীরা কিডনি অসুখে ডায়ালিসিস করতে যান তঁারা পাস পাচ্ছেন না। গাড়ি চালানোর তেলের বিল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ফাসট্যাগের বিল কোনও কিছুই বের হচ্ছে না। সংরক্ষিত তেলে কয়েকদিন গাড়ি চালানো সম্ভব হলেও তা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তেলের বিল বের না হলে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে, বিভিন্ন ফাসট্যাগের ব্যালেন্সও কমে গিয়েছে। এতে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে অনেক গাড়িই টোল ট্যাক্স পার হতে সমস্যায় পড়বে। এনিয়ে আন্দোলনকারীদের তরফে তাপস দে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা হয়নি। কিন্তু এই অল্প টাকায় আমাদের সংসার চলছে না। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আমরা নিগমের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কবে থেকে বেতন বাড়বে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি। ফলে বেতন বৃদ্ধির অর্ডার বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ আন্দোলনরত আরেক কর্মী রাজ্জাক ইসলামেরও একই মত।
