বালুরঘাট: সরকারি বাসে উঠে ভাড়া দেওয়ার পরেও মিলছে না টিকিট। কোথাও আবার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নিলে ‘খুচরো নেই’ অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার (এনবিএসটিসি) একাধিক বাসে এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বালুরঘাট ও হিলির যাত্রীরা। যাত্রীদের এই ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পরিবহন সংস্থা (NBSTC Bus Service)।
যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, কন্ডাক্টরদের বিরুদ্ধে এই ধরণের অনিয়ম চললেও দেখার কেউ নেই। বালুরঘাট ও হিলি রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসে নিয়মিত টিকিট না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। যাত্রীদের বড় অংশের আশঙ্কা, টিকিট ইস্যু না হলে সরকারি নথিতে ওই রুটে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখানো হবে। আর তার জেরে ভবিষ্যতে ‘যাত্রী নেই’ অজুহাতে সংশ্লিষ্ট রুটের বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বোল্লা-বালুরঘাট রুটের যাত্রী রনি বর্মনের অভিযোগ, “অনেক সময় ২৫ টাকা ভাড়া নিয়ে ১৮ টাকার টিকিট দেওয়া হয়। আবার ২০ টাকা দিলে বাকি দু’টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, প্রতিটি যাত্রীর ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে। এক-দু’টাকা করে বহু যাত্রীর কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার এই প্রবণতাকে ‘চোরা কারবার’ ছাড়া কিছু বলা যায় না।”
হিলি রুটের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। বিমান কৃষ্ণ সাহা নামে এক যাত্রীর কথায়, “এই রুটে যাত্রী সংখ্যা অনেক। তবুও টিকিট দেওয়া হয় না। রাস্তায় টিকিট পরীক্ষকদের দেখাও মেলে না। এই অসাধু চক্র অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, অনিয়মের অভিযোগটি তাদের নজরে এসেছে। তবে সুনির্দিষ্ট বাসের নম্বর ও রুটের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে টিকিট পরীক্ষকের সংখ্যা কম থাকলেও, দপ্তরের তরফে সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

