উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাইয়ের স্তূপ সরাতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা দেহাংশ। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে (Nazirabad Hearth Incident) ভস্মীভূত গোডাউনে বৃহস্পতিবার আর্থ মুভার দিয়ে তল্লাশি চালাতেই মিলল আরও দু’টি দেহাংশ। ফলে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩। যদিও উদ্ধার হওয়া এই অংশগুলি একই ব্যক্তির নাকি আলাদা কারও, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই DNA ম্যাপিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ছাইয়ের স্তূপে ‘নিখোঁজ রহস্য’
গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নাজিরাবাদের একটি ডেকোরেটার্সের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পাশের একটি মোমো তৈরির কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। টানা দু’দিন লড়াইয়ের পর ২৭ জানুয়ারি আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকে একাধিক প্রাণ। পুলিশের (Police) কাছে ইতিমধ্যেই ২৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আর্থ মুভার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিখোঁজদের পরিজনরা।
মালিক গ্রেপ্তার, গাফিলতির অভিযোগ
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই গোডাউনে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ও গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে।
তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা
এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু তার আগেই বুধবার রাত থেকে নাজিরাবাদে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (IPC-র ১৪৪ ধারা) জারি করে প্রশাসন। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, “সত্য গোপন করতেই রাজ্য সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছলেন? অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এখানে রাজনীতির কোনো স্থান নেই।
