Nagrakata Elephant Assault | নাগরাকাটায় হাতির তাণ্ডব! ওয়াচ টাওয়ার থেকে পড়ে মৃত্যু যুবকের, শোকের মাঝেই স্কুল ভাঙচুর করল দাঁতাল

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


নাগরাকাটা: নাগরাকাটায় বন্যহাতির তাণ্ডব থামার কোনো লক্ষণই নেই (Nagrakata Elephant Assault) । একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। সোমবার হাতি তাড়াতে গিয়ে ওয়াচ টাওয়ার থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই, মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি দলছুট দাঁতাল হাতি আক্রমণ চালাল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। হাতির হানায় স্কুল ভবনটির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় পঠনপাঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বন দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুনীল ওরাওঁ (৪০), বাড়ি সুলকাপাড়া বাজারে। গত সোমবার রাতে সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাড়টন্ডু বস্তীতে নিজের ৬ বিঘা জমির ধান খেত বাঁচাতে ওয়াচ টাওয়ারে পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। গভীর রাতে প্রায় ৩০টি হাতির একটি দল তাঁর জমির দিকে ধেয়ে আসতে দেখলে তড়িঘড়ি টাওয়ার থেকে নামতে যান সুনীল। সে সময় সিঁড়িতে পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওই একই রাতে হাতির তাড়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় উল্টে গিয়ে হাত ভেঙে আহত হন জয়বাহাদুর তামাং (৪৫) ও অর্জুন ছেত্রী (৪৯) নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা। গত কয়েক দিনে ওই এলাকায় হাতি প্রায় ৭০ বিঘা জমির পাকা ধান খেত তছনছ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জার সাম্য রায় জানিয়েছেন, হাতির গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

এই রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে সুলকাপাড়া পঞ্চায়েতের বামনডাঙ্গা চা বাগানের টন্ডু ডিভিশনের টন্ডু স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হানা দেয় একটি দলছুট দাঁতাল। প্রথমে সীমানা প্রাচীরের একাংশ ভেঙে স্কুলে ঢুকে হাতিটি একে একে অফিস ঘর এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বসার ঘরের দরজা ভেঙে দেয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমান, অফিস ঘরে রাখা মিড ডে মিলের চাল খাওয়ার সময় দরজায় আটকে পড়েছিল হাতিটি। দরজা ও টিনের চালে হাতির শরীরের ঘষার স্পষ্ট দাগ রয়েছে। সেখান থেকেই শুঁড় দিয়ে চালের বস্তা টেনে চাল সাবাড় করে সে। এরপর পাশের স্টাফ রুম এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসরুমগুলির দরজা-জানালা ভেঙে চুরমার করে দেয় দাঁতালটি।

স্কুলের টিআইসি রাজা আনসারি হতাশার সুরে জানান, এই নিয়ে সেখানে ৮০ বার হাতির হামলা হলো। স্কুলটি আদৌ টিকিয়ে রাখা যাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমানে ৫টি ক্লাসরুমের মধ্যে ৩টিই পড়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে এবং ভাঙা ঘরে বাচ্চাদের বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে সমস্ত বিষয়টি জানানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *