নাগরাকাটা : কোথাও বীর সুভাষ, কোথাও আবার মাতঙ্গিনী হাজরা। বাদ যাননি ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গেয়ে যাওয়া শহিদ ক্ষুদিরাম বসু কিংবা বুড়িবালামের তীরে বুক চিতিয়ে লড়াইরত বাঘা যতীন। রয়েছে স্বাধীন দেশের তেরঙা। স্বাধীনতা দিবসের আগে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নানা আঙ্গিকের ছবিতে এমনভাবেই সেজে উঠল জলপাইগুড়ি জেলার স্কুলগুলি। তবে কোনও পেশাদার শিল্পী আঁকেননি, ছাত্রছাত্রীরাই নিজেদের স্কুলের দেওয়ালে আঁকল ছবিগুলো। তাদের সাহায্য করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সমগ্র শিক্ষা মিশনের জলপাইগুড়ির জেলা শিক্ষা আধিকারিক (ডিইও) সঞ্জীব দাস বলেন, ‘আমাদের আহ্বানে স্কুলগুলি থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। স্বাধীনতার নায়কদের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য।’
মালবাজারের সুভাষিণী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীরা এঁকেছে গান্ধিবুড়ি মাতঙ্গিনীকে। সদর ব্লকের পাতকাটা ঘোষপাড়া জুনিয়ার হাইস্কুলের পড়ুয়াদের রংতুলিতে ফুটে উঠেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ক্ষুদিরাম বসু। ময়নাগুড়ি দুই নম্বর আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদেরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় এঁকেছে নেতাজির ছবি। ধূপগুড়ির বৈরাতিগুড়ি নম্বর টু সিএস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পছন্দের তালিকাতেও রয়েছেন নেতাজি। নাগরাকাটার চ্যাংমারি টিজি ওয়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির রিমিকা ওরাওঁ বলল, ‘আগে কাগজে ছবি এঁকেছি। এবার দেওয়ালেও জাতীয় পতাকা আঁকলাম। স্যররা খুব সাহায্য করেছেন।’ পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত বানারহাটের একটি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রূপেশ রায়ও। তার কথায়, ‘অন্য ধরনের অনুভূতি। খুব ভালো লাগছে। কাজ আরেকটু বাকি আছে। বৃহস্পতিবার মনে হচ্ছে শেষ হয়ে যাবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বালা (বিল্ডিং অ্যাজ লার্নিং এইড)-র ধারণাটিকে বাস্তবায়িত করতে এবছর জলপাইগুড়িতে ১৫ অগাস্টের আগে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির ভূমিকা’ এই বিষয়টিকে বেছে দেওয়া হয়েছিল। ১৪ অগাস্টের মধ্যে কাজটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এজন্য জেলার ৩৬৫টি প্রাথমিক স্কুল, ১৬৫টি জুনিয়ার হাইস্কুল, ৩৯টি হাইস্কুল এবং ১৪৪টি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এজন্য মিশনের তরফে প্রাথমিকের ক্ষেত্রে স্কুলপিছু ৫০০ টাকা, আপার প্রাইমারি স্কুলগুলিকে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। হাইস্কুলগুলির ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমাণটা ১৫০০ টাকা।
এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে স্কুলের ভবনের দেওয়াল, সিঁড়ি, শ্রেণিকক্ষের ভেতরের দেওয়ালকে বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে তোলা হল। নাগরাকাটার সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাড়টন্ডু অ্যাডিশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র ওরাওঁ সমগ্র শিক্ষা মিশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বললেন, ‘স্কুলের সহ শিক্ষিকা নিবেদিতা চট্টোপাধ্যায় পড়ুয়াদের দিয়ে ছবি আঁকিয়েছেন। তিনি নিজেও বেশ কয়েকটি ছবি এঁকেছেন।’
