নাগরাকাটা: শরৎচন্দ্রের ‘গৃহদাহ’ বা রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’র মতো ত্রিকোণ প্রেমের আখ্যান কেবল সাহিত্য বা সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বুনোদের জগতেও যে ভালোবাসা ‘বিষম বস্তু’, তার সাক্ষী থাকল সুলকাপাড়া (Nagrakata)। সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে দুই পুরুষ হাতির ১০ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অন্তিম পরিণতি হলো ট্র্যাজেডিময়। দাঁতালের মরণপণ আঘাতে প্রাণ হারাল একটি পূর্ণবয়স্ক মাকনা হাতি (Elephant Struggle)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলকাপাড়া বিটের জঙ্গলে শুক্রবার রাত দুটো থেকেই হাতির বিকট গর্জন ও লড়াইয়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতি দুটিকে সরানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। সাময়িকভাবে রণে ভঙ্গ দিলেও বনকর্মীরা সরতেই ফের শুরু হয় মরণপণ যুদ্ধ। শনিবার দুপুর দুটো নাগাদ সাফা ঝোড়া নামে একটি জলাশয়ের মাঝে মাকনাটিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেটির শরীরে দাঁতালের দাঁতের গভীর ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে।
ডায়না রেঞ্জের (Diana Vary) রেঞ্জার অশেষ পাল জানান, বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সঙ্গিনী দখলের জন্য লড়াই স্বাভাবিক হলেও, এবারের লড়াই ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। দেশের প্রখ্যাত হস্তী বিশেষজ্ঞ পার্বতী বড়ুয়া জানান, সাধারণত মাকনারা (দাঁতহীন পুরুষ হাতি) বেশি শক্তিশালী হয়। মাকনা যদি প্রতিপক্ষের দাঁত ধরে ফেলতে পারত, তবে দাঁতালই কাহিল হতো। কিন্তু এক্ষেত্রে দাঁতালটি বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। তাঁর মতে, শুধু সঙ্গিনী নয়, লড়াইয়ের নেপথ্যে আরও অনেক মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে।
পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ‘ন্যাফ’-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু জানান, হাতির লড়াই ব্যতিক্রমী না হলেও লড়াইয়ের জেরে মৃত্যুর ঘটনা খুব কমই ঘটে। সাধারণত দুর্বল পক্ষ রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে মাকনাটি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছে।
বন দপ্তর জানিয়েছে, পথের কাঁটা সরিয়ে জয়ী দাঁতালটি সঙ্গিনীর সাথে জঙ্গলের গভীরে চলে গিয়েছে। বনকর্মীরা তাদের খোঁজ চালাচ্ছেন। মৃত মাকনাটির ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সুলকাপাড়ার জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
