Nagrakata | খরস্রোতা ডায়না যেন মূর্তিমান আতঙ্ক! নদীতে একই দিনে ভেসে গেল ৮ জন, তলিয়ে মৃত ২

Nagrakata | খরস্রোতা ডায়না যেন মূর্তিমান আতঙ্ক! নদীতে একই দিনে ভেসে গেল ৮ জন, তলিয়ে মৃত ২

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


নাগরাকাটা: বৃহস্পতিবার একই দিনে কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া দুই তরুণের মৃত্যু হল নাগরাকাটা ও বানারহাট এই দুই ব্লকের বিভাজিকা হিসেবে পরিচিত খরস্রোতা ডায়না নদীতে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সকালে ডায়না রেল সেতুর সামনে। দেহ উদ্ধার হয় অন্তত ৫০০ মিটার দূরের সড়ক সেতু লাগোয়া স্থান থেকে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম যোগেশ বরাইক (২২)। বাড়ি বানারহাটের আমবাড়ি চা বাগানের বরাইক লাইনে। অন্যদিকে ওপর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে সড়ক সেতু থেকে কিছুটা দূরে ডায়না নদীর পূর্ব দিকের বাঁধ বরাবর স্থান থেকে। মৃতের নাম মহম্মদ সাজিদ আনসারি (১৬)। বাড়ি বানারহাটের রিয়াবাড়ি চা বাগানের গুদাম লাইনে। এদিন ওই নদীতে ২ টি আলাদা ঘটনায় মোট ৮ জন ভেসে যায়। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। বাকী ৬ জনের মধ্যে ৪ জন মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ২ জন সুস্থ রয়েছেন। জলপাইগুড়ির জেলা পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কেউ যাতে এসময়ে নদীতে না নামে তা বারবার করে প্রচার করা হচ্ছে। তবুও অনেকেই তা শুনছেন না। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়ে্ছে। থানা গুলিকে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রেই জানা গিয়ছে এদিন দুপুর ১২ টা নাগাদ আমবাড়ির যোগেশ আরও ৪ জনের সঙ্গে ডায়নায় গিয়েছিল। এক সঙ্গী চন্দন লোহারের বাবা সম্প্রতি প্রয়াত হন। তাঁর পারলৌকিক কাজের পর রীতি মেনে শ্রাদ্ধকর্মে ব্যবহৃত উপাদান তাঁরা নদীতে ফেলতে যান। এরপর স্নান করতে নামেন। সেসময় মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া যোগেশ গভীর জলের দিকে তলিয়ে যেতে থাকে। শুভঙ্কর বরাইক নামে এক বন্ধু যোগেশের বিপদ দেখে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করলে সেও ডুবে যেতে বসে। এরপর চন্দন এগিয়ে এসে দু জনের মধ্যে শুভঙ্করকে উদ্ধার করতে সফল হয়। কিন্তু যোগেশ ভেসে যায়। পরে ওই তরুণকে লুকসান সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে রিয়াবাড়ি চা বাগানের মহম্মদ সাজিদ আনসারি নামে দশম শ্রেণীর যে পড়ুয়ার মৃত্যু হয় সে বানারহাটের একটি বেসরকারী স্কুলের ছাত্র। আরো ৪ বন্ধুর সঙ্গে গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে সাজিদ ডায়না নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল। ৫ জনই ভেসে গেলে ৪ জনকে পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলে উদ্ধার করে প্রথমে বানারহাট সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে সেখান থেকে মালবাজার সুপার স্পে্শালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ৪ সঙ্গীর নম ইরসাদ আলি (১৫), সাহিল আনসারি (১৭), শিবপ্রসাদ শা (১৭) ও ইরফান আলি (১৫)। চামুর্চির বাসিন্দা ওই তরুণদের প্রত্যেকেই এখন চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর নাগরাকাটা ও বানারহাট থানার দুই আইসি কৌশিক কর্মকার ও বিরাজ মুখোপাধ্যায়, সেচ দপ্তরের বানারহাটের এসডিও গৌরব বিশ্বাস সহ প্রশাসনের কর্তারা ডায়নায় যান। নদীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন ও ঘটনাগুলি বোঝার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এদিন বৃষ্টি হয় নি। তবে উত্তাল না থাকলেও ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা এই নদী বরাবরই খরস্রোতা। সেটা সম্ভবত ওই তরুণদের ভাবনায় ছিল না। শক্তি থাপা নামে স্থানীয় এক তরুণ বলেন, ‘নদীতে নামার পর ওঁদের হাবুডুবু খেতে দেখে কয়েকজন উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসে। তারপর গাড়ি করে আমরা হাসপাতালে পাঠাই। তখনও পর্যন্ত সাজিদ নিখোঁজ ছিল। পরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়।’ ডায়না পাড়ের আংরাভাসা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আপার কলাবাড়ির ভক্ত বাহাদুর ছেত্রী বলেন, ‘ড্রেজিংয়ের নামে নদীতে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি করে গর্ত তৈরি করে রাখা হয়েছে। কলাবাড়ি বস্তীর বাঁধ লাইন, আপার কলাবাড়ি, পূর্ব হৃদয়পুর এলাকায় এলেই সবকিছু বোঝা যাবে। মানুষ, বন্যপ্রাণ সবার জন্যেই ডায়না এখন এর ফলেও আতঙ্কের আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করুক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *