উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্যে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই এবার ইডির কুনজরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হক (Nadimul Haque ED Raid)। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা, দিল্লি এবং রাঁচী—এই তিন শহর মিলিয়ে মোট আটটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। প্রতিটি ঠিকানাই ওই তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে ইডি সূত্রে খবর মিলেছে। যদিও ঠিক কী কারণে বা কোন মামলার সূত্র ধরে এই হঠাৎ অভিযান, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, সাংসদের সঙ্গে যুক্ত একটি সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই তল্লাশি অভিযান।
সোমবার সকালের দিকে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় সাংসদের একটি ঠিকানায় হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা। পার্ক সার্কাস ছাড়াও শহরে আরও দুটি ভিন্ন ঠিকানায় এই মুহূর্তে অভিযান চলছে। অন্যদিকে, জাতীয় রাজধানী দিল্লিতেও নাদিমুলের বাড়ি ও অফিস মিলিয়ে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতেও ইডির একটি দল অভিযান শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, পার্ক সার্কাসের যে ঠিকানায় এদিন ইডি হানা দিয়েছে, সেখানে একটি উর্দু দৈনিক সংবাদপত্রের দফতর রয়েছে। ভবনের বাইরে থাকা হোর্ডিং অনুযায়ী, ওই সংবাদপত্রটি কলকাতা ছাড়াও দিল্লি, রাঁচী, আসানসোল, শিলিগুড়ি, ভোপাল, লখনউ এবং শ্রীনগর থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া কলকাতার ১২, দরগা রোডে ওই সংবাদপত্রটির রেজিস্টার্ড অফিস রয়েছে। গত অগাস্ট মাসেই এই সংবাদপত্র সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে, আর সেই সূত্র ধরেই সোমবারের এই মেগা অভিযান।
উল্লেখ্য, ইডির নজরে থাকা দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ের সাংসদের ওই বাংলোটি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাট শিবির) দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দলে ভাঙনের পর গত জুনেই দিল্লির কালীঘাট শিবিরের নতুন কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয় নাদিমুলের এই বাংলোর একটি অংশে। এর আগে ব্যারাকপুরের তৎকালীন সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশ জোড়াফুল শিবিরের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এমন একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও হাইপ্রোফাইল ঠিকানায় ইডির এই হানা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

