উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সবুজ সংকেত দেখেই লাইনে চাকা গড়িয়েছিল স্কুল পড়ুয়াদের পুলকারটি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তই ডেকে আনল চরম বিপর্যয়। মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ-গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ে শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা (Murshidabad prepare accident) আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপ। একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর রেলগেট খুলে দেওয়াই কাল হলো। উল্টো দিক থেকে আসা নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি আস্ত স্কুলগাড়ি (Faculty pool automobile accident)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার মধ্যে ৪ জনই নিষ্পাপ শিশু।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একটি ট্রেন পাস করার পরেই লেভেল ক্রসিংয়ের গেটটি তুলে দেন দায়িত্বরত গেটম্যান। স্বাভাবিক নিয়মেই লাইনের দু’পাশে আটকে থাকা যানবাহন চলাচল শুরু করে। স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে একটি পুলকার এবং এক সাইকেল আরোহী যেই না ট্র্যাকে উঠেছেন, অমনি ধেয়ে আসে অন্য লাইনের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র গতিতে থাকা ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে গাড়ি ও সাইকেলটিকে।
রক্তাক্ত ট্র্যাকে নিভে যায় ৫টি তাজা প্রাণ। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যু হয় ৭ বছরের ফারহানা বেগম, ৮ বছরের জাসিকা শবনম এবং ৫০ বছর বয়সী সাইকেল আরোহী জামশেদ শেখের। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ৫ বছরের শিশু ইসানুর রহমান এবং ৭ বছরের তামান্না পারভিন। বর্তমানে কর্ণসুবর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical Faculty) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন পুলকারের চালক সাহেব শেখ ও পড়ুয়া আনিশা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন।
এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দ্বিতীয় ট্রেনটি আসার আগে কেন গেট ফেলা হলো না? এমনকি দায়িত্বরত গেটম্যান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও দাবি করেছেন অনেকে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুরো দায় এসে পড়ছে গেটম্যানের ওপর। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

