উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি হানা থেকে শুরু করে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের ওপর পুলিশের ‘আক্রমণ’—বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বৃহস্পতিবার কলকাতায় আইপ্যাক এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের পর কৌশলগত কারণেই নীরব ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কিন্তু শুক্রবার দিল্লিতে যেভাবে দলীয় সাংসদদের ওপর দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) চড়াও হল, তাতে আর চুপ থাকলেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বাংলা রুখে দাঁড়াবেই।”
Democracy is punished.
Criminals are rewarded.
Companies are weaponised.
Elections are manipulated.JAIL the PROTESTERS.
BAIL the RAPISTS.That is BJP’s model of New India.
Even when the remainder of the nation is pressured to give up,
Bengal will resist.We are going to struggle you tooth… https://t.co/YH8oAxuUnn
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 9, 2026
গণতন্ত্রের কন্ঠরোধের অভিযোগ
শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়ের মতো তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদরা। অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ তাঁদের (TMC MPs Detained) ওপর চড়াও হয় এবং টেনে-হিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে ভ্যানে তোলে। মহিলা সাংসদদেরও রেয়াত করা হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
এই ঘটনার ছবি শেয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্যোশাল মিডিয়ায় লেখেন, “আজ গণতন্ত্র তিরস্কৃত, অপরাধীরা পুরস্কৃত। এজেন্সিগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে, আর জামিন দেওয়া হচ্ছে ধর্ষকদের। এটাই বিজেপির নতুন ভারত।”
‘শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই’
বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, দেশের অন্যান্য অংশ যা-ই করুক না কেন, বাংলা মাথানত করবে না। তাঁর কথায়, “যদি গোটা দেশ আত্মসমর্পণ করে, তাতেও বাংলা রুখে দাঁড়াবে। আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব এবং তোমাদের হারাব। যতই শক্তি প্রয়োগ করো।”
কেন নীরব ছিলেন অভিষেক?
বৃহস্পতিবার ইডি অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলেও অভিষেক নীরব ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ছিল তাঁর সচেতন কৌশল। অভিষেক বর্তমানে জেলা সফরে রয়েছেন একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি নিয়ে। সেই কর্মসূচি যাতে আইপ্যাক ইস্যুর ছায়ায় ঢাকা না পড়ে যায়, সম্ভবত সেই কারণেই তিনি চুপ ছিলেন। কিন্তু শুক্রবারের ‘পুলিশি বর্বরতা’র পর তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে ময়দানে নামলেন। একইসঙ্গে এজেন্সির ‘অপব্যবহার’ নিয়েও সরব হন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনি লড়াইয়ে সুবিধা পেতে চাইছে বিজেপি। তবে দিল্লির এই ঘটনা যে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
