ফাঁসিদেওয়া: হাতে উদ্যত লাঠি, আর তাতেই মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক! মুরালীগঞ্জ হাইস্কুলের (Muraliganj Excessive College) প্রধান শিক্ষককে স্কুলে ফেরানোর দাবিতে সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল থেকেই ফের উত্তাল হয়ে উঠল ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক মুক্ত করতে একপর্যায়ে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে অ্যাকশন ও লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের ওপর সরাসরি লাঠি চলেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও পুলিশি পদক্ষেপের পর কার্যত থমথমে গোটা এলাকা।
গত শুক্রবার বিষয়টি সাময়িক শান্ত মনে হলেও, সোমবার সকাল থেকেই ফের নতুন করে আন্দোলনের দানা বাঁধে। বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করে প্রিয় প্রধান শিক্ষক সামসুল আলমকেই স্কুলে পুনর্বাহাল করার দাবিতে সোচ্চার হয় শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নিজেদের স্কুলের ব্যাগ সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।
পড়ুয়াদের এই অনড় অবরোধের জেরে দেখতে দেখতে জাতীয় সড়কে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে অগুনতি যানবাহন। তৈরি হয় দীর্ঘ ও তীব্র যানজট। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘক্ষণ বুঝিয়েও অবরোধ তোলা সম্ভব না হওয়ায় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ও রাস্তা সচল করতে হাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে যায় পুলিশ বাহিনী। লাঠি উঁচিয়ে চালানো এই পুলিশি অ্যাকশনের জেরে জাতীয় সড়কে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
উত্তেজনার পারদ চরম সীমায় পৌঁছানোয় শেষ পর্যন্ত সোমবারের মতো মুরালীগঞ্জ হাইস্কুলে সমস্ত পঠনপাঠন ও ক্লাস পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রায় দেড় মাস আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এবার একদম উল্টো খাতে বইতে শুরু করায় বিধাননগর ও ফাঁসিদেওয়া জুড়ে চরম চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

