উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আগামী আইপিএল (IPL) মরসুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (MI) জার্সিতে হার্দিক পান্ডিয়াকে (Hardik Pandya) আর দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলতি মরসুমে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৪টিতে জয় এবং পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে শেষ করার পর, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলের অন্দরে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। টানা ছয় বছর ট্রফি না পাওয়ার হতাশা এবং হার্দিকের নেতৃত্ব দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে মুম্বই কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আইপিএলের অন্যতম সফল এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে অলরাউন্ডার হার্দিকের একটি ‘সম্মানজনক বিচ্ছেদ’ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব হারানোর বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। দলের ভেতরকার অন্তত তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জানিয়েছেন, মরসুম চলাকালীনই টিম ম্যানেজমেন্ট হার্দিকের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছিল। শুধু অধিনায়কত্বই নয়, দলে একজন ক্রিকেটার হিসেবেও তাঁর থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু ‘ব্যক্তি হার্দিক’-কে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। সূত্রের দাবি, হার্দিক যদি নিজে থেকে রিলিজ বা ছাড়পত্র চান, তবে কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটকাবে না।
এমনকি মরসুমের শেষ ম্যাচের পর কোচিং স্টাফদের দলীয় বৈঠকে সিনিয়র খেলোয়াড়দের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়, “যেখানেই খেলো না কেন, কোচের কথা শোনা এবং সেই অনুযায়ী খেলা জরুরি। অনেক সময় ডেটা অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, খেলোয়াড়রা তা মাঠে মানেনি।”
রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma) সরিয়ে হার্দিককে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটি যে মস্ত বড় ভুল ছিল, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মুম্বই কর্তারা। আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না তাঁরা। দলের সফলতম অধিনায়ক এবং অন্যতম অভিজ্ঞ সদস্য রোহিত শর্মাকে আগামী দিনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুম্বই শিবিরের এক সূত্রের দাবি, “মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পরবর্তী অধিনায়ক এমন কাউকেই করা হবে, যাকে রোহিত শর্মা পূর্ণ সমর্থন করবেন। দল বুঝেছে কোথায় ভুল হয়েছিল। তবে রোহিত নিজে আর অধিনায়কত্বে ফিরবেন না। তাঁর পরামর্শ মেনেই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
গুজরাত টাইটান্স থেকে হার্দিককে আনার সময় কোচ আশিস নেহরাকেও নিয়ে আসার চেষ্টা হয়েছিল কি না, এই প্রশ্নে এক কর্মকর্তা জানান যে আইপিএলে চাইলেই অন্য দলের কোচ বা অধিনায়ককে হুট করে আনা যায় না, ফলে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সমস্যা শুধু অধিনায়কত্বে নয়, দলের খেলার ধরনেও ছিল। দলের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সময়ের সঙ্গে নিজেদের বদলে নিতে পারেনি। পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে রাজস্থান রয়্যালস বা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মতো দলগুলো ওপেনিংয়ে দ্রুত রান তোলার নতুন ধারা তৈরি করেছে, কিংবা আরসিবি ও গুজরাত অভিজ্ঞ বোলারদের দারুণভাবে ব্যবহার করেছে— সেখানে মুম্বইয়ের মতো মহাতারকায় ঠাসা দল আধুনিক টি-টোয়েন্টির কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যানও মুম্বইয়ের এই ভরাডুবির সাক্ষী দিচ্ছে। অরেঞ্জ বা পার্পল ক্যাপের দৌড়ে দলের কোনো ক্রিকেটারই ছিলেন না। দলের সেরা ব্যাটসম্যান রায়ান রিকেলটন রান তালিকায় ১৭ নম্বরে এবং লেগ-স্পিকার আল্লাহ ঘাজ়নফর উইকেট তালিকায় ১৪ নম্বরে শেষ করেছেন।
২০২২ সালে মুম্বই ছেড়ে গুজরাতে গিয়ে অধিনায়ক হিসেবে আইপিএল জিতেছিলেন হার্দিক। ২০২৪ সালে যখন তিনি আবার মুম্বইতে ফেরেন, তখন সমর্থকেরা রোহিতের জায়গায় তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে সহজে মেনে নিতে পারেননি। শুরু থেকেই এই সম্পর্ক ছিল জটিল।
আপাতত আইপিএল শেষ হওয়ায় দল ছুটিতে রয়েছে। তবে সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্তারা একসঙ্গে বসে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। হার্দিক শুধু ক্রিকেটার হিসেবে থাকবেন নাকি দল ছাড়বেন, আর রোহিতের পছন্দের কোন নতুন মুখ দলের ব্যাটন হাতে নেবেন— সবটাই আগামী দিনে খতিয়ে দেখা হবে।
