উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবার খোলনলচে বদলে দিতে এবার মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানার ‘স্বাস্থ্যসাথী’র বিকল্প হিসেবে আগেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল নতুন বিজেপি সরকার। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হলো ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana)। শুক্রবার রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের একজন মানুষও যাতে নিখরচায় চিকিৎসার আওতা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করবে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘যাঁরা কেন্দ্রীয় নিয়মের কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের কাউকেই খালি হাতে ফিরতে হবে না। তাঁদের জন্য থাকছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’। এই প্রকল্পেও বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে।’
তৃণমূল আমলের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে ভিন রাজ্যের নামী হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা না পাওয়ার যে ক্ষোভ ছিল রাজ্যবাসীর, তা এক ঝটকায় মিটিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, আয়ুষ্মান ভারতের মতোই ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র কার্ডও সারা ভারতে গ্রহণযোগ্য হবে। তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, দিল্লি বা মুম্বইয়ের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাবেন বাংলার মানুষ।
রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই জুলাই মাস থেকে আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম পূরণের কাজ এবং কার্ড বিলি শুরু হয়েছে। তবে কারা কোন ক্যাটিগোরিতে থাকবেন, তা স্পষ্ট করেছে প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে এতদিন বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত চালু করতে দেয়নি পূর্বতন সরকার। ক্ষমতায় এসেই সেই জট কাটালো বিজেপি। শুধু স্বাস্থ্যই নয়, রেজিনগরের সভা থেকে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে আরও দুটি বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে দ্রুত চালু হচ্ছে ‘জি রামজি প্রকল্প’ (আবাস যোজনা)। পাশাপাশি, ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’তে কেন্দ্রের দেওয়া বার্ষিক ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকার আরও ৩ হাজার টাকা যোগ করে কৃষকদের মোট ৯ হাজার টাকা দেবে।

