অভিযোগ, শাসকদলের বিরোধী হওয়ায় তৃণমূল জমানায় নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল তাঁদের। রাজ্যে পালাবদলের পর এমন চিকিৎসকদের ফিরিয়ে আনল নতুন সরকার। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে ডা. রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, তৃণমূল আমলে মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনে যাঁরা সরকারি প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাদের অনৈতিকভাবে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। সেসময় উত্তরবঙ্গ লবির ‘হোতা’ ডা. অভীক দে, ডা. সুদীপ্ত রায়, ডা. সুশান্ত রায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তাঁদের বাইরে পাঠানো হবে।
২০১৫ সালে কুকুরের ডায়ালিসিস কাণ্ড ঘিরে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, তারপরেও তৎকালীন সরকারের রোষের মুখে পড়েছিলেন একাধিক চিকিৎসক। নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ অর্পিতা রায়চৌধুরী, ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরাগবরণ পাল ও রেডিয়োথেরাপি বিশেষজ্ঞ বিষাণ বসুর পোস্টিং হয়েছিল কলকাতার বাইরে। নয়া সার্কুলার অনুযায়ী অর্পিতাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে বদলি করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁর পুরোনো কর্মস্থল পিজি হাসপাতালে। বিষানকে ও পরাগকে যথাক্রমে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ থেকে নতুন পোস্টিং দেওয়া হল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সার্কুলারে সব মিলিয়ে ৪৪ জন চিকিৎসকের নাম রয়েছে বদলির তালিকায়। উল্লেখ্য আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন করাতেও বহু চিকিৎসককে বদলি করা হয়। যাঁর মধ্যে ছিলেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. তুলিকা ঝা, ডা. মানস গুমটা, ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ও। চিকিৎসকরা আশাবাদী আগামী দিনে এঁদেরকেও ফেরত আনা হবে শহর কলকাতায়। অনেককে যেমন শহরে আনা হয়েছে, বেশকিছু চিকিৎসক যাঁরা কলকাতায় দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তাদের বদলি করা হয়েছে বাইরে। সেই তালিকায় রয়েছেন, এসএসকেএমের নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অতনু পাল, মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
সর্বশেষ খবর
