MP | নেতা বদলে খুশি মহিলা সাংসদরা

MP | নেতা বদলে খুশি মহিলা সাংসদরা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) হঠাৎ ইস্তফার পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভ্যন্তরীণ সমীকরণও বদলে গিয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এবার ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakli Ghosh Dastidar) ও শতাব্দী রায়ের (Shatabdi Roy) হাতে।

দলীয় সূত্রের দাবি, অভিষেক-কাকলি-শতাব্দী ত্রয়ীর সমন্বয় ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের পরিসরে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, লোকসভায় আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে চলেছে বাংলার শাসকদল। দীর্ঘদিন জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন ছিলেন দলের পরিচিত মুখ। তবে এবার মহিলা নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

সূত্রের দাবি, মহিলা নেতৃত্বকে সামনে আনা শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ভোট-কৌশলের অঙ্গ। ২০২৬-এ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ভাঙতে মহিলা ভোটব্যাংককে টার্গেট করা তৃণমূলের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় স্তরে ক্রমাগত সরব থাকা জরুরি। কাকলি ও শতাব্দীর মাধ্যমে তৃণমূল এই লক্ষ্যপূরণের পথে হাঁটছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে জাতীয় স্তরে তৃণমূলের ভূমিকা কী হবে, তার রূপরেখা তৈরি করেছেন। ইন্ডিয়া জোটের ভিতরে সমন্বয় রক্ষা, বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলন এবং বাংলার রাজনৈতিক ইস্যুগুলিকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা, এই তিনটি বিষয়কে অক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে। দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে। অভিষেক ফোন করে খবর নিচ্ছেন প্রতি মুহূর্তে এবং কাকলি ও শতাব্দীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নির্দেশ দিচ্ছেন। ফলে মহিলা ব্রিগেডে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তা দলীয় শিবিরে স্পষ্ট।

বুধবার সকালে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তৃণমূলের তরফে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এসআইআর (SIR) ইস্যুতেই এককাট্টা থাকবে বিরোধীরা। অন্যদিকে, নতুন উপ-দলনেত্রী শতাব্দী রায়ও দায়িত্ব হাতে পেয়েই সক্রিয়। এদিন লোকসভায় এসআইআর ইস্যুতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভে শামিল হন তিনি। শতাব্দী বলেন, ‘এই দায়িত্ব পেয়ে আমি খুব খুশি। দলের জন্য যে কোনও দায়িত্ব নিতে আমি তৈরি।’

বুধবার সকালে সংসদ ভবনের মকরদ্বারের বাইরে দলীয় সাংসদরা বাংলার মনীষীদের ছবি হাতে নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন কাকলির নেতৃত্বে। মঙ্গলবারই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন, বাংলা-বাঙালির অপমান কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। বিজেপির আচরণের বিরুদ্ধে সর্বত্র তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সেই আহ্বানেই বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হয় সংসদ ভবনের বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে দলের সাংসদরা স্লোগান দিলেন, ‘বাংলার অপমান মানছি না, মানব না।’

প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌসম নূর, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মিতালি বাগ, মমতাবালা ঠাকুর। যদিও কাকলির নেতৃত্বে এদিনের বিক্ষোভে অনুপস্থিত ছিলেন কল্যাণ। তবে খোশমেজাজেই ধরা দিলেন কল্যাণ। হাসিমুখে বললেন, ‘অনেক দিন বাদে কোর্টে যাচ্ছি, কেসে ইনভলভ হচ্ছি, মজা হচ্ছে, এনজয় করছি। নতুনদের শুভেচ্ছা জানাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *