উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ম্যাচ শুরু হতে না হতেই গোল। আর তারপর পুরো ম্যাচ জুড়ে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখা এবং গতি নিয়ন্ত্রণ—এই জোড়া অস্ত্রেই স্কটল্যান্ডকে কুপোকাত করল মরক্কো (Morocco Vs Scotland)। গ্রুপ ‘সি’-র এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইসমাইল সাইবারির ৭১ সেকেন্ডের দ্রুততম গোলেই স্কটিশদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিল ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল উত্তর আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে হাইতিকে হারালেও স্কটল্যান্ডের ঝুলিতে রইল সেই তিন পয়েন্টই। নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে হবে স্টিভ ক্লার্কের (Steve Clarke) শিষ্যদের।
বোস্টনের মাঠে ম্যাচের বাঁশি বাজতে না বাজতেই মরক্কোর প্রথম আক্রমণ। ম্যাচের ঠিক ৭১ সেকেন্ডে মাঝমাঠ থেকে স্কটিশ রক্ষণভাগকে চিরে দিয়ে একটি দুর্দান্ত থ্রু পাস বাড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ। ডিফেন্সের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে পড়েন পিএসভি আইন্দহোভেনের মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি (Ismael Saibari)। তাঁর জোরালো ও নিখুঁত শট আটকানোর কোনো সুযোগই পাননি স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। চলতি বিশ্বকাপে এটি দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার সাইবারির দ্বিতীয় গোল।
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে মরক্কো। আশরফ হাকিমি ও আজেদিন উনাহি মাঝমাঠের দখল নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। মরক্কোর ‘হাই প্রেসিং’ ফুটবলের সামনে স্কটল্যান্ড বারবার নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়তে বাধ্য হয়।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মরক্কোর হাতেই ছিল। ৫২ মিনিটে আবারও গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন সাইবারি। কিন্তু বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তাঁর শট স্কটিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ক্রসবারে আছড়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর ব্রাহিম দিয়াজ (Brahim Diaz) একক দক্ষতায় স্কটল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকলেও ফার্স্ট টাচ ভালো না হওয়ায় ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। হাকিমির সেট-পিস এবং ডান প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ স্কটিশ ডিফেন্সকে তটস্থ করে রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে দ্বিতীয় গোল পায়নি মরক্কো।
ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্থের শেষ দিকে বেন ডোক, লিন্ডন ডাইকস এবং কেনি ম্যাকলিনকে মাঠে নামান স্কটল্যান্ড কোচ স্টিভ ক্লার্ক। এই পরিবর্তনের পর স্কটল্যান্ডের খেলায় গতি ফেরে এবং বলের দখল বাড়ে। অ্যান্ডি রবার্টসন ও স্কট ম্যাকটোমিনের পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে রায়ান ক্রিস্টির একটি শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে ডাইকসের একটি হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ দিকে স্কটল্যান্ড আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও মরক্কোর ইস্পাতকঠিন ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত ৬ মিনিট পার হওয়ার পর রেফারির শেষ বাঁশিতে উল্লাসে মাতে মরক্কো শিবির।

