মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া গতি পেতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রক্রিয়ায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব নিয়ে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, “পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটার জন্য আমি ওকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমার আশা এভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচল ভারত ও গোটা বিশ্বের জন্য কতটা জরুরি সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছি।”
আরও পড়ুন:
Spoke with the President of Iran, Dr. Masoud Pezeshkian, on the latest developments in West Asia. Welcomed the progress made within the negotiations and expressed hope that continued efforts will result in lasting peace within the area. Reiterated the significance of freedom of navigation…
— Narendra Modi (@narendramodi) June 30, 2026
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই ফোনালাপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের নিহত প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তেহরান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে তেহেরানে যাচ্ছেন না। পরিবর্তে ইরানে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত। সেখানে থাকবেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন। মোদির ইরানে না যাওয়াটা ভারত-ইরান সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কা ছিল। সেই আশঙ্কা দূর করতেই সম্ভবত ফোনে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর। যা কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়াবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
আসলে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে ভারতের। অন্যদিকে, এই দুই দেশ আবার ইরানের ‘শত্রু’। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে মোদির ইরান সখ্য কিছুটা চাপ বাড়াবে ট্রাম্পের উপর। এদিকে ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আবার বন্ধুত্বপূর্ণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনীতির দাঁড়িপাল্লায় ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তেহরানে না গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
