Mohamed Muizzu Pakistan Go to | চিন প্রীতির পর এবার পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম-মহরম! মালদ্বীপের কৌশলগত পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন ভারত  

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ সংলগ্ন দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিপজ্জনক ‘ত্রিমুখী ভারসাম্য’ (Three-way stability) তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছ। একদিকে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের বার্তা দিয়ে ভারতীয় অর্থসাহায্যে চলা গ্রেটার মালে কানেক্টিভিটি প্রজেক্টে সুবিধা নেওয়া, অন্যদিকে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-কে জায়গা দেওয়া এবং পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে নজিরবিহীন সামরিক ও বাণিজ্যিক সখ্যতা বৃদ্ধি—মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর (Mohamed Muizzu Pakistan Go to) এই ত্রিদেশীয় কূটনীতি এখন পুরোপুরি প্রকাশ্যে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ইসলামাবাদে তিন দিনের সফল দ্বিপাক্ষিক সফর সম্পন্ন করলেন মহম্মদ মুইজ্জু। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ডেপুটি পিএম ইশাক দার এবং পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন মুইজ্জু। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সামরিক বাহিনীর পেশাদার আদানপ্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য ১.৩ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। সফরকালে ইসলামাবাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুইজ্জুকে সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধিও দেওয়া হয়।

এই সফরে মুইজ্জুর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক চাল ছিল ২০১৬ সালে উরি হামলার পর থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া সার্ক (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার ডাক দেওয়া। উরি হামলার পর ভারত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ ব্যতিরেকে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্মেলন সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সুরে সুর মিলিয়ে মুইজ্জুর সার্ক সক্রিয় করার এই সওয়ালকে নয়াদিল্লি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতের এক্সিম ব্যাঙ্কের ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ ও ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদানে চলা ভারতের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ‘গ্রেটার মালে কানেক্টিভিটি প্রকল্প’ (যা মালে, ভিলিমালে, গুলহিফালহু ও থিলাফুশিকে যুক্ত করছে)-র প্রশংসা করতে গিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন মুইজ্জু। অথচ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই থিলাফুশি বন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের বরাত তুলে দেওয়া হয়েছে চীনের হাতে!

‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় আসা মুইজ্জু ভারতের সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে অসামরিক প্রযুক্তিবিদ বসালেও এখন চিনের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতের কৌশলগত প্রভাববলয়ে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও মালদ্বীপে পাক সামরিক উপস্থিতির চুক্তি হয়নি, তবে ভারত মহাসাগরে চিন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রভাব বৃদ্ধি দিল্লির কৌশলগত সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *