গঙ্গারামপুর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার সরাসরি অ্যাকশন মোডে দেখা গেল গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে (MLA Shock Go to Gangarampur Hospital)। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে প্রথমে হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিধায়ক। এরপর সদলবলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হাসপাতালের একাধিক বেহাল দশা ও চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে হাসপাতাল সুপারের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সত্যেন বাবু।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় একের পর এক কঙ্কালসার পরিকাঠামো দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক। বিশেষ করে সাধারণ ওয়ার্ডগুলিতে একই বেডে গাদাগাদি করে ৪ থেকে ৫ জন করে রোগী রাখার বিষয়টি দেখে তিনি তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন। হাসপাতাল চত্বরে রমরমিয়ে চলা দালালরাজ ও বহিরাগতদের দাপট, পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ারের (Manpower) অভাব এবং অপারেশন থিয়েটার সহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ওয়ার্ডগুলি খতিয়ে দেখার পর বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় হাসপাতাল authority ও সুপারকে একাধিক স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানান, “চিকিৎসকদের অকারণে ও অযথা রোগী রেফার করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গরিব ও সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা হাসপাতালেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” এর পাশাপাশি হাসপাতালে গজিয়ে ওঠা দালালচক্র সম্পূর্ণভাবে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার ওপর জোর দেন তিনি। সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতালের প্রত্যেক চিকিৎসক যাতে কড়াভাবে ৮ ঘণ্টা ডিউটি করেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন বিধায়ক।
হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে বৈঠকে গঙ্গারামপুর হাসপাতালেই স্থায়ীভাবে ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম (Publish-Mortem) ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন সত্যেন বাবু। হাসপাতালের ভোলবদল করতে ম্যানপাওয়ার বাড়ানো, উন্নত মানের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীর অসহায় পরিজনদের বসার জন্য পর্যাপ্ত শেড (Ready Shed) নির্মাণ করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কোনও রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে হবে এবং এর জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত ধরনের সাহায্য করা হবে।
