বুল নমদাস, নয়ারহাট: ভোটপর্ব মিটে গিয়েছে। কিন্তু ভোটগণনার দিন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) পরিচালিত মাথাভাঙ্গা (Mathabhanga)-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ সভাপতি অফিসে আসছেন না। শিকারপুরে অবস্থিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ সভাপতির অফিস কক্ষ দুই সপ্তাহ ধরে শুনসান পড়ে রয়েছে। এমনকি সমিতির বিভিন্ন দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষরাও অফিসমুখী হচ্ছেন না। ফলে পঞ্চায়েত সমিতিতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রয়োজনে সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। দ্রুত সমিতির কাজকর্ম স্বাভাবিক করার দাবি জোরালো হয়েছে।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজিবুল হাসানের মোবাইল সুইচড অফ থাকায় তাঁর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহ সভাপতি মহেন্দ্রনাথ বর্মনকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। যদিও মাথাভাঙ্গা-১ এর বিডিও শুভজিৎ মণ্ডলের বক্তব্য, ‘সভাপতির অনুপস্থিতিতে পরিষেবা নিয়ে সাধারণত কারও কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। পরিষেবা নিশ্চিত করতে ব্লক প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।’ তবে সভাপতির অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলে জানান বিডিও।
অনেকের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পরই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষরা অফিসমুখী হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। তবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মজিরুল হোসেনের বক্তব্য, ‘নতুন সরকারের নির্দেশিকা মোতাবেক এখন পঞ্চায়েত সমিতি চলবে। আজ না হোক কাল সভাপতি নিশ্চয়ই দপ্তরে আসবেন। তখন আমরাও অফিসে যাব।’
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ব্লক প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিনিধি। গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের রূপকার। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের তদারকি, বাস্তবায়নের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের নানারকম আবেদন ও শংসাপত্রে তাঁর স্বাক্ষর লাগে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, এতদিনে অন্তত শতাধিক পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ সভাপতির দেখা না পেয়ে ঘুরে গিয়েছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, শীতলকুচির বিজেপি বিধায়ক সাবিত্রী বর্মনের কথায়, ‘পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ সভাপতি কেন অফিসে আসছেন না তা জানি না। তবে পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়েন, তা দেখা হচ্ছে।’
সোমবার প্রয়োজনে সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন হাজরাহাটের বাসিন্দা কৈলাস বর্মন। তবে সভাপতির দেখা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বললেন, ‘এই নিয়ে তিনদিন এলাম। কিন্তু দেখা হল না। কবে দেখা পাওয়া যাবে জানি না।’
