কোচবিহার: ‘ইয়ার্কি চলছে নাকি এখানে?’ জুনিয়ার চিকিৎসকের দিকে আঙুল তুলে ঠিক এভাবেই শাসালেন বিজেপি নেত্রী (BJP Chief)। কিন্তু কী কারণে? জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে কোচবিহারের (Cooch Behar) এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (MJN Medical Faculty) ভর্তি থাকার পরেও সঠিক পরিষেবা পাননি এক রোগী। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে এক জুনিয়ার চিকিৎসকের (Junior Physician) সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপা চক্রবর্তী।
ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মমতাপ্রসাদ ঠাকুর দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের অসুখে ভুগছেন। সম্প্রতি দিল্লির এইমসে চিকিৎসা করিয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে মাঝেমধ্যেই রোগীর পেটে জল জমে যাবে। তখন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। সেই অনুযায়ী গত ১১ অগাস্ট রোগীকে এমজেএন মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। কিন্তু মমতাপ্রসাদের ভাই রোহিত ঠাকুর অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘চিকিৎসকদের বারবার জল বের করার কথা বলা হলেও তাঁরা গুরুত্ব দেননি। ১১ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত দিদি যন্ত্রণায় ছটফট করেছে।’
শেষে অতিষ্ঠ হয়ে রোগীর পরিবার বিষয়টি বিজেপি নেত্রী দীপা চক্রবর্তীকে জানায়। এরপর গত ২১ অগাস্ট হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘ইয়ার্কি চলছে নাকি এখানে? এটা বিগত ১৫ বছরের সরকার নয়, নতুন সরকার। রোগীকে সবার আগে পরিষেবা দিতে হবে।’ নেত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর তড়িঘড়ি চিকিৎসকরা রোগীর পেট থেকে জল বের করেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারা এবং গাফিলতি এই ঘটনার মাধ্যমে আরও একবার যে স্পষ্ট হল, তা বলাই বাহুল্য।

