কুলটি: ‘অতো সহজ নয় বাংলাকে বাংলাদেশ করে দেওয়া। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা বাংলাকে বাঁচাবো।’ শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি বিধানসভার আলডি ফুটবল ময়দানে বিজেপির এক জনসভা (Kulti BJP Rally) থেকে এভাবেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিন সনাতনীদের একজোট হওয়ার জোরালো ডাক শোনা গেল ‘মহাগুরুর’ গলায়।
বিজেপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), বিধায়ক ডাঃ অজয় পোদ্দার এবং কৃষ্ণা প্রসাদসহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে মিঠুন চক্রবর্তী আগাগোড়া ছিলেন আক্রমণাত্মক।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে মিঠুন বলেন, ‘বাংলায় কোনও উন্নয়ন নেই। কল-কারখানা নেই, না আছে শিক্ষা, না স্বাস্থ্য। আছে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি।’ তাঁর অভিযোগ, ‘পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে এটি আর পশ্চিমবঙ্গ নয়, যেন ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ তৈরি হয়েছে।’ এমনকি হিন্দুদের ওপর আঘাত এলে প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি কলকাতায় প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশের লাঠিচালনা ও গ্রেফতারির প্রসঙ্গ তোলেন।
তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যকে নিশানা করে মহাগুরু বলেন, ‘হুমায়ুন বলেছিলেন ৩০ শতাংশ হিন্দুকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন। এখন তিনি বলছেন মুখ্যমন্ত্রী এসব বলতে বলেছিলেন। একবার ভাবুন রাজ্যের শাসকদলের অবস্থা!’ মিঠুন স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, বরং যারা ভারতের ক্ষতি করতে চায় তাঁদের বিরুদ্ধে। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘কাশ্মীরে হিন্দু ব্রাহ্মণদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যদি এই রাজ্যে এমন হয়, তবে আমরা কোথায় যাবো?’
এদিন বাম, কংগ্রেস এমনকি তৃণমূল করা হিন্দুদেরও এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানান তিনি। মা-বোনেদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেউ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাড়বেন না। ওটা আপনাদের টাকা।’ সভার শেষে মেজাজ বদলে নিজের সিনেমার সংলাপ আউড়ে মিঠুন বলেন, ‘আমি জাত গোখরো। শুধু দুধ কলা খাই। নাম তুফান। বছরে এক আধবার আসি, আর যখন আসি তখন প্রলয় ঘটে।’ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রীরা একবার সত্যি কথা বলে ফেললে পরে পাল্টি খেয়ে লাভ নেই। সব মিলিয়ে, কুলটির সভা থেকে ২০২৬-এর আগে কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন মিঠুন।
